করোনাভাইরাসের কারণে খরচ বাঁচাতে রাজধানীতে অনেক মানুষ এখন কম ভাড়ার বাসা খুঁজছেন।
করোনাভাইরাসের কারণে রাজধানী ঢাকায় গত মার্চের শেষ দিক থেকে বাড়িভাড়ার চাহিদা কমতে থাকে। লকডাউনের কারণে এপ্রিলে স্থবিরতা ছিল। মে মাস থেকেই আবার চাহিদা বাড়তে থাকে, যা জুনেও অব্যাহত ছিল। কিন্তু বর্তমানে ভাড়া বাড়ি খোঁজা ও বাড়িভাড়াসংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানের হার চলতি বছরের শুরুর দিকের চেয়েও বেশি। মূলত খরচ বাঁচাতে অধিকাংশ মানুষ সাশ্রয়ী ভাড়ার ছোট ফ্ল্যাট খুঁজছেন।
দেশে অনলাইনে বাড়ি ও বাণিজ্যিক জায়গাভাড়া এবং ফ্ল্যাট ও প্লট বিক্রির সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিপ্রপার্টি ডটকম বাড়িভাড়ার এই চালচিত্র প্রকাশ করেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) বিপ্রপার্টি ব্যবহারকারীর সংখ্যা, তালিকাভুক্ত প্রপার্টি ও অনুসন্ধানের সংখ্যার ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান বিপ্রপার্টি ডটকম।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক জানুয়ারি-মার্চে বাড়িভাড়া নেওয়া ও প্রপার্টি তালিকাভুক্তির হার গত বছরের শেষ তিন মাসের চেয়ে বেশি ছিল। করোনার সংক্রমণ কমাতে মার্চের শেষ দিকে লকডাউন জারি করা হলে বাড়িভাড়ার চাহিদা কমতে থাকে। মার্চের শুরুর দিকে বেশির ভাগ মানুষ ১ হাজার থেকে দেড় হাজার বর্গফুটের মধ্যে ২ শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজছিলেন। এখন যেসব বাড়ির ভাড়া ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে, সেগুলোই বেশি খোঁজ করা হয় বলে জানায় বিপ্রপার্টি।
বিপ্রপার্টির প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর রাজধানীর শ্যামপুর, খিলক্ষেত, মানিকনগর, কাফরুল দক্ষিণ খান, আগারগাঁও, হাজারীবাগে তুলনামূলক কম ভাড়ায় বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। সে কারণে এলাকাগুলোতে বাড়িভাড়ার চাহিদা বাড়ছে। তবে বাড়িভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছে উত্তরা, বসুন্ধরা আবাসিক ও মোহাম্মদপুর পছন্দের শীর্ষে। এই তিন এলাকাই চলতি বছর ভাড়া বাড়ির মোট চাহিদার প্রায় ৩৫ শতাংশ পূরণ করছে।
প্রতিবেদন সম্পর্কে বিপ্রপার্টির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক নসওয়ার্দি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন বাড়িভাড়ায় এত পরিবর্তন, তা সহজেই বোধগম্য। করোনা এই শহরে বসবাসরত প্রায় সবার জীবনযাত্রার ওপরেই প্রভাব ফেলেছে। অনেকেই তাদের জীবনযাত্রার খরচ কমাতে অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ার বাড়িতে উঠছেন।