আরাকানে জাতিগত রাখাইনদের উপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রতিবাদে রোববার ঢাকায় মানববন্ধন করবে রাখাইন কমিউনিটি অব বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বসবাসকারী ৭ শতাধিক রাখাইন সম্প্রদায়ের জনগণ এই মানববন্ধনে অংশ নেবে। রোববার সকালে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।
রাখাইন কমিউনিটি অব বাংলাদেশের মানববন্ধন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ক্যংঞিং বলেন, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ঢাকা, বরগুনা ও পটুয়াখালি জেলার ৭ শতাধিক রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেবে। আরাকানে বসবাসকারী জাতিগত রাখাইন সম্প্রদায় ও আমাদের ভাষা, ধর্ম এক। তাছাড়া আমাদের অনেকের পূর্বপুরুষ অতীতে রাখাইন থেকে বাংলাদেশে এসে বসবাস করেছেন। মিয়ানমার সেনাবাহিনী তাদের উপর যে গণহত্যা ও নারকীয় নির্যাতন চালাচ্ছে তা দেখে আমরা মুখ বন্ধ রাখতে পারি না। তাই বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে সেই নির্যাতন বন্ধে চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।
মানববন্ধনের অন্যতম আয়োজক মং চিৎ হ্রি বলেন, অনেকেই মনে করেন রাখাইনে শুধু রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। এটা মোটেই ঠিক নয়। রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি রাখাইনে জাতিগত বুড্ডিস্ট রাখাইনদের উপরও সমানভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। মূলত বার্মিজ সামরিক জান্তা রাখাইনে জাতিগত মুসলিম রোহিঙ্গা ও বুড্ডিস্ট রাখাইনদের অস্তিত্ব মুছে ফেলে বার্মিজদের স্যাটেল করাতে চায়। বার্মিজ সুপ্রিমেসি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাই আমরা জাতিগত রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব রক্ষায় সোচ্চার হয়েছি।
মানববন্ধন আয়োজকদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটনার বিরুদ্ধে সমালোচনা করা ও নিন্দা জ্ঞাপন করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের আছে। আমরা ঢাকায় শাহবাগ চত্ত্বরে কয়েকটি কারণে এই মানববন্ধন করতে যাচ্ছি।
১. মিয়ানমার রাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কোভিড-১৯ এর অজুহাত দেখিয়ে সমগ্র দেশে লকডাউন ঘোষণা করে। কাউকে ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না।
২. বর্তমানে রাখাইন প্রদেশের ইন্টারনেট বন্ধ। রাখাইন প্রদেশের সকল প্রকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিচ্ছন্ন করা হয়েছে এবং সকল গণহত্যর সংবাদ গোপন করাই তাদের লক্ষ্য।
৩। মিয়ানমার সামরিক বাহিনী সুকৌশলে এবং পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন গ্রামে ঢুকে নির্যাতন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও গুলি করছে।
৪. বাংলাদেশের সীমান্তের কাছাকাছি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করাসহ সকল উসকানিমূলক কার্যকলাপ অব্যাহত রেখেছে। তাদের এসব মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে আমাদের এই মানববন্ধনের আয়োজন। মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের কারণে বর্তমানে রাখাইনে কয়েক লাখ জনগণ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোকে রাখাইন প্রদেশে প্রবেশের অনুমতি বন্ধ করার কারণে সেখানে খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা, বাসস্থান ও শিক্ষাসহ সব মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত জনগণ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার নতুন নয়। ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে কুখ্যাত বার্মিজ সমর নায়ক মংওয়ান এর নেতৃত্বে তৎকালীন রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী জনগণকে পৃথিবী থেকে চিরতরে বিলুপ্ত করার উদ্দেশ্যে কয়েক লাখ মানুষকে হত্য করা হয়েছিল। এমনকি কোনো ধর্মীয় স্থাপনা পর্যন্ত রেহাই পায়নি। এমন মানবতা লংঘনকারীদের বিরুদ্ধে আমরা যদি প্রতিবাদ না করি তাহলে তাদের এই অমানবিক কর্মকাণ্ড আরও অব্যাহত থাকবে। তাই আমরা রোববার শাহবাগে মিয়ানমার বর্বর সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দাজ্ঞাপন করতে বাধ্য হয়েছি। বিশ্ববাসী এবং জাতিসংঘের দাবি জানাই যেন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ইউরোপীয় কমিশনসহ রাশিয়া, চায়না, আশিয়ান এবং সকল বিশ্ববাসীকে বলতে চাই, এই অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে রাখাইন প্রদেশের সকল জনগণ অচিরেই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে আমাদের ধারণা।