রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ন

তিতা করলায় চাষির মুখে মিষ্টি হাসি

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৯৮ জন নিউজটি পড়েছেন

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই অল্প সময়ে কম পুঁজিতে বেশি লাভ হওয়ায় চাষিরা ঝুঁকেছেন করলা চাষের দিকে। সদর উপজেলায় চলতি মৌসুমে গতবারের তুলনায় করলার ফলন হয়েছে দ্বিগুণ। পাশাপাশি এবার চাষিরা ভালো দামও পেয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রুহিয়া থানাধীন রাজাগাঁও, আসান নগর, চাপাতি, রাজারামপুর খড়িবাড়ী, দক্ষিণ বঠিনা, উত্তর বঠিনা, ঝলঝলি, ফরিদপুর, বড়দেশ্বরী, ধর্মপুর, বোয়ালিয়া চোপড়াপাড়াসহ রুহিয়ার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২০০ চাষি করলা চাষ করছেন। সাধারণত বছরে দু’বার ক্ষেতে করলা চাষ করা যায় বলে চাষিরা জানান। ফলন ভালো হওয়ায় এই সবজি ক্রেতাদের হাতের নাগালে রয়েছে।

রুহিয়ার পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, থানার বাসিন্দাদের চাহিদা মেটাতে কয়েক বছর আগেও বিভিন্ন এলাকা থেকে করলা আনতে হতো। কিন্তু এখন রুহিয়ায় উৎপাদিত করলা বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন বাজারে। আগে প্রতি কেজি করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়।

সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আগস্ট থেকে অক্টোবর ও অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসে ক্ষেতে দু’বার করলা চাষ করা যায়। সাধারণত রোপনের ৪০ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। মাত্র দেড় মাসে ফলন পাওয়া যায় বলে চাষিদের মাঝে এই ফসলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। উপজেলায় করলা চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর, রুহিয়া থানার বড়দেশ্বরী গ্রামের বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত ও বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনকারী নিরাপদ কৃষি খামারে করলা বাজারজাত শুরু করেছেন বলে জানান পদকপ্রাপ্ত মোঃ মেহেদী হাসান উল্লাহ। তিনি আরো জানিয়েছেন, চার থেকে পাঁচ বছর ধরে করলা চাষ করে লাভবান হচ্ছি। আমার দেখাদেখি গ্রামের শতাধিক চাষি করলা চাষে ঝুঁকেছেন।

একই এলাকার চাষি মোতাহার হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে ৩৩ শতক জমিতে মাত্র ১২ হাজার টাকা খরচ করে করলা চাষ করেছি। রোগবালাই আক্রমণ না করলে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা পাওয়ার আশা করছি।

রুহিয়ার পাইকারী সবজি ব্যবসায়ী মোঃ হাবুল জানায়, পাইকারী বাজারে প্রতি মণ করলা বিক্রি হচ্ছে দু’হাজার টাকায়। আর রুহিয়া বাংলা বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষ্ণ রায় জানান, চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় ২৭০ হেক্টর জমিতে করলা চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছে ৫০০ কেজি। ভালো ফলনের জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের সহায়তা করেছেন। চাষিদের কাছ থেকে করলা কিনে সবজির স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে করলা বিক্রি করা হচ্ছে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম বরিশালসহ দেশের বাইরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English