শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন

তিনিই সব কিছুর ওপর শক্তিশালী

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২০
  • ৫০ জন নিউজটি পড়েছেন

করোনায় গোটা দুনিয়া আজ স্তব্ধ! মৃত্যুর মিছিল প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে! মানুষের দুঃখ, কষ্ট, অব্যক্ত বেদনাকে ভাষা দিয়ে প্রকাশ অসম্ভব! আজ মানুষের কষ্ট দেখাটাই যেন বড় কষ্টের। থমকে গেছে কোলাহল, দাম্ভিক, ক্ষমতাশালী আর বিত্তবানদের অহঙ্কার! প্রতাপশালী আর বিত্ত-বৈভব আর প্রাচুর্যের অধিকারীরা আকাশের দিকে তাকাচ্ছে! আজ কামান-গোলাবারুদ আর গুলির আওয়াজ নেই, কিন্তু প্রতি মুহূর্তে মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। মা জানে না সন্তানের মৃত্যুর খবর! সন্তান থাকতে পারছে না পিতা-মাতার জানাজার নামাজে! সন্তানের দাফন হচ্ছে পিতা-মাতার অনুপস্থিতিতে। আবার বাবা-মাকে করোনার কারণে রাস্তায় ফেলে দিচ্ছে। হায়রে দুনিয়া! সবাই সবার থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে!
কবি মতিউর রহমান মল্লিকের ভাষায় আজ বলতে হয়Ñ ‘পৃথিবী আমার আসল ঠিকানা নয়। মরণ একদিন মুছে দেবে সব রঙিন পরিচয়… মিছে এই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, মিছে গান কবিতার ছন্দ। মিছে এই অভিনয় নাটকের মঞ্চে, মিছে এই জয় আর পরাজয়।’ এ যেন কিয়ামতের সেই দৃশ্য! আল্লাহ বলেন, ‘সেদিন মানুষ পালাতে থাকবে নিজের ভাই, বোন, মা, বাবা, স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের থেকে। তাদের প্রত্যেকে সেদিন এমন কঠিন সময়ের মুখোমুখি হবে, নিজের ছাড়া আর কারোর কথা তার মনে থাকবে না।’ (সূরা আবাসা : ৩৪-৩৭)
উন্নত কী গরিব রাষ্ট্র, সবাই সমস্যার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। কিন্তু কোনো কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছে না! অনেকের জানা নেই আপনজনের কবরের হদিসটুকুও! জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার ভাষায়, ‘ছবি আমার বুকে বেঁধে পাগল হয়ে কেঁদে কেঁদে ফিরবে মরু কানন গিরি সাগর আকাশ বাতাস চিরি, সেদিন আমায় খুঁজবে বুঝবে সেদিন বুঝবে।’ পৃথিবীর এ বোবা কান্নার আওয়াজ আমাদের হৃদয়কে ভেঙে খান খান করে দিচ্ছে। পৃথিবীর তথাকথিত ত্রাণকর্তারাই আজ ধরাশায়ী! কে এগিয়ে আসবে কাকে রক্ষা করতে? কে বাঁচাবে বিশ্বমানবতাকে? নিরুদ্দেশ গন্তব্যে আজকের পৃথিবীর মানুষের এই যাত্রা। জ্ঞান-বিজ্ঞান আর তথ্য-প্রযুক্তির শীর্ষে যাদের বাস, তারাও আজ বারবার আকাশের পানে তাকাচ্ছে! পারমাণবিক বোমা, মিসাইল, কামান, ড্রোন সবই এখানে ভোঁতা।
এই তো ক’দিন আগে বিশ্ববাসী এগুলোর ব্যবহার দেখেছে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে মুসলমানদের বিরুদ্ধে। কিন্তু এখন এসব কোনো কাজেই আসছে না। সবাই আজ দারুণ অসহায়! পৃথিবীর মোড়লদের আজ বড়ই ক্ষমতাহীন লাগছে! এবার সবার আগে করোনার আক্রমণে লণ্ডভণ্ড উন্নত রাষ্ট্রগুলো। এর শেষ যেন সবারই অজানা।
হ্যাঁ, একজনই আমাদের রক্ষা করতে পারেন। তিনি হচ্ছেন আমার-আপনার আমাদের সবার সৃৃষ্টিকর্তা আল্লাহ, যিনি করোনাসহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রক। ‘ইন্নাল্লাহা আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির’ পৃথিবী, আকাশসমূহ ও সমগ্র জাতির ওপর রাজত্ব আল্লাহরই জন্য নির্ধারিত এবং তিনি সবকিছুর ওপর শক্তিশালী।’ (মায়িদা : ১২০) সেই সর্বময় ক্ষমতা আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে হবে। আল্লাহ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। অসীম ক্ষমতাধর প্রভু তিনি। তিনি যা ইচ্ছা করতে পারেন। তাঁর ক্ষমতার পরিমাপ করা সম্ভব নয় কারো পক্ষে। তিনি পরম পরাক্রমশালী। সু-উচ্চকণ্ঠে বলতে হবে, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘জমিনে ও সমুদ্রে যা কিছু ফাসাদ হচ্ছে, তা মানুষের হাতের কামাই।’ (সূরা রুম : ৪১) আল-কুরআনে বলা হয়েছে ‘আল্লাহর অনুমোদন ছাড়া কখনো কোনো মুসিবত আসে না। যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করে আল্লাহ তার দিলকে হিদায়াত দান করেন। আল্লাহ সব কিছু জানেন। (সূরা তাগাবুন-১১) ‘পৃথিবীতে এবং তোমাদের নিজেদের ওপর যেসব মুসিবত আসে তার একটিও এমন নয় যে, তাকে আমি সৃষ্টি করার আগে একটি গ্রন্থে লিখে রাখিনি। এমনটি করা আল্লাহর জন্য খুবই সহজ কাজ। ( সূরা হাদিদ-২২)
আল-কুরআনে বলা হয়েছে, বলো, হে আল্লাহ! হে বিশ্বজাহানের মালিক! তুমি যাকে চাও রাষ্ট্রক্ষমতা দান করো এবং যার থেকে চাও রাষ্ট্রক্ষমতা ছিনিয়ে নাও; যাকে চাও মর্যাদা ও ইজ্জত দান করো এবং যাকে চাও লাঞ্ছিত ও হেয় করো। কল্যাণ তোমার হাতেই নিহিত। নিঃসন্দেহে তুমি সবকিছুর ওপর শক্তিশালী।’ (৩:২৬) এখন যদি আপনি তাদের শাস্তি দেন, তাহলে তারা তো আপনার বান্দা আর যদি মাফ করে দেন, তাহলে আপনি পরাক্রমশালী ও জ্ঞানময়। (মায়িদা : ১১৮)
রাসূল সা: বলেছেন, ‘প্রত্যেক আদম সন্তান ত্রুটিশীল ও অপরাধী, আর অপরাধীদের মধ্যে উত্তম তারা যারা তাওবা করে।’ (তিরমিজি)। রাসূল সা: বলেন, ‘আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং দৈনিক সত্তরের অধিকবার আল্লাহর কাছে তাওবা করি। (বুখারি) অন্য হাদিসে রাসূল সা: বলেছেন, আমিও প্রতিদিন ১০০বার তাওবা করি।’ (বুখারি)
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে বনি আদম! তুমি যতক্ষণ আমাকে ডাকবে ও আমার আশা পোষণ করবে আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেবো। তোমার কাছ থেকে যা কিছুই প্রকাশ পাক, এতে আমি কোনো পরোয়া করি না। হে বনি আদম! তোমার গোনাহ যদি ঊর্ধ্বাকাশ পর্যন্ত পৌঁছায়, আর তুমি আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেবো, এতে আমি সামান্য পরোয়া করি না। হে বনি আদম! তুমি যদি আমার কাছে দুনিয়া ভরা গোনাহ নিয়ে আসো আর শিরকে লিপ্ত না হয়ে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করো, আমি তোমার জন্য জমিন ভরা ক্ষমা নিয়ে উপস্থিত হবো।’ (তিরমিজি)
আল্লাহ পাক বলেন, ‘হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ; তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হইও না। নিশ্চয় আল্লাহ সব গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সূরা জুমার : ৫৩)
লন্ডন টাইমস লিখেছে Ñ ‘Westerns disappearing of their own society rising crime, family breakdown,drugs and alcoholism have come to admire the discipline of security of Islam.’ পাশ্চাত্যের লোকেরা নিজেরাই নিজেদের সমাজের প্রতি নিরাশ হয়ে পড়েছে। তাতে ক্রমবর্ধমান অপরাধপ্রবণতা, পারিবারিক ব্যবস্থা ধ্বংস, মদ্যপান ও মাদকাসক্ত ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। শেষ পর্যন্ত তারা ইসলাম প্রবর্তিত নিয়মশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
ইসলাম হচ্ছে সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে গোটা মানবজাতির জন্য পাঠানো হেদায়াত। মানুষ যাতে দুনিয়ায় শান্তি ও আখিরাতে মুক্তি পায়। রাসূল সা: মানুষের জীবনের জন্য আইনকানুন ও বিধিবিধান পাঠিয়েছেন। ব্যক্তিগত পারিবারিক সামাজিক রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ইত্যাদি সব দিক ও বিভাগের পূর্ণাঙ্গ কালজয়ী জীবনবিধান আল ইসলাম। ভাষা বর্ণ ভৌগোলিক সীমারেখার অতিক্রম করে সব ধরনের মানুষের অন্তরে স্থান করে নেয়ার যোগ্যতা রাখে একমাত্র চিরন্তন মানব ধর্ম। আসুন মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর দিকে ফিরে যাই। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে হেফাজত করুন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English