বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে। বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেশ উন্নয়নের মহাসড়ক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দারিদ্রতা জাদুঘরে চলে গেছে বলেছেন, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।
বুধবার বিকেলে গাজীপুর পুলিশ লাইনে ভাস্কর্য ‘চেতনায় স্বাধীনতা’ উদ্বোধনকালে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দারিদ্রপীড়িত মানুষ জাতিসত্বার বিকাশ ঘটিয়েছে। দীর্ঘ নয় মাসের লড়াই-সংগ্রামে বহুপ্রাণের বিনিময়ে আমাদের চেতনা বাস্তবায়ন হয়েছে। আমরা অর্থনৈতিক মুক্তি পেয়েছি। অশিক্ষা ও দারিদ্রতা এখন আমাদের কাছে কেবলই স্মৃতি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির, ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি জিহাদুল কবির বিপিএম-পিপিএম, গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, ‘চেতনায় স্বাধীনতা’ বাঙ্গালীর তেইশ বছরের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সম্বলিত একটি নান্দনিক শিল্পকর্ম। এই সৌধ নির্মাণের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে প্রজন্মান্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্প্রসারিত করা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার আত্মত্যাগের ঐতিহাসিক বার্তা পৌঁছে দেয়া। ‘বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ৭ মার্চ, ২৬ মার্চ’ চিরঞ্জীব এ অমোঘ সত্য জাগ্রত রাখা।
তিনি আরো বলেন, এই সৌধের মূল উপজীব্য মাস্তুলসহ একটি নৌকার প্রতিচ্ছবি যা আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনার প্রতীক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের আটটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক পৃথকভাবে আটটি ফলকে প্রতিস্থাপিত হয়েছে এ স্মৃতির মিনারে। এর বিভিন্ন অংশে ৫২, ৫৪, ৫৬, ৬২, ৬৬, ৬৯, ৭০ ও ৭১ সালের ঐতিহাসিক ঘটনাপুঞ্জির সমাবেশ ঘটানো হয়েছে পোড়ামাটির তৈরী শিল্পকর্মের নান্দনিকতায়।
মাস্তুলের উপরিভাগের পটভূমিতে রয়েছে একটি উদীয়মান লাল সূর্য, সেই লাল সূর্যের বুকে রয়েছে বাংলাদেশের একটি সোনালী মানচিত্র। সেই মানচিত্রের সম্মুখে রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য, যার সাথে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর চার সহযোদ্ধা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ, শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান।