বাংলাদেশ সময় বেলা দুইটা। ফ্রান্সে কান চলচ্চিত্র উৎসবের মূল ভবন প্যালে ডে ফেস্টিভ্যালের বাইরে তখন লম্বা সারি। মাথার ওপর ঝকঝকে রোদ নিয়ে সার বেঁধে ভেতরে ঢুকছিলেন শতাধিক দর্শক। তাঁদের গন্তব্য সালে দিবুসি হল। সেখানেই গতকাল বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা ১৫ মিনিটে উদ্বোধনী প্রদর্শনী হল বাংলাদেশের সিনেমা রেহানার। প্রথমবারের মতো কানের অফিশিয়াল সিলেকশনে আঁ সার্তেঁ রিগায় সিনেমাটি দেখানো হয়। পৃথিবীর নানা ভাষার মানুষ ছবিটি দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এ যেন বাংলাদেশের জন্য অনন্য এক সম্মানের।
বিশ্বের খ্যাতিমান চলচ্চিত্র তারকারা লালগালিচার ওপর দিয়ে হেঁটে প্রবেশ করেন উৎসব হলে। এবার লালগালিচা মাড়িয়ে এগিয়ে গেল রেহানার টিম। সাতজনের এ টিম তিনটার দিকে পৌঁছায় সালে দিবুসি হলে। সিনেমাটির নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ আড়ালে থাকলেও গতকাল ক্যামেরায় ধরা পড়েন। সিনেমা প্রদর্শনীর আগে নিয়মানুসারে আমন্ত্রিত টিমকে উপস্থিত থাকতে হয়। ফটোসেশনের পর শুরু হয় সিনেমা। ১ ঘণ্টা ৪৭ মিনিটের এই সিনেমা প্রদর্শনের সময় হলে নেমে আসে নীরবতা। সিনেমা শেষ হওয়ার কয়েক সেকেন্ড পর বিপুল করতালি দিয়ে অভ্যর্থনা জানান দর্শকেরা। নিজের সিনেমা দেখে, দর্শকের প্রতিক্রিয়ায় কান্না সংবরণ করতে পারেননি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তিনি বলেন, ‘শুধু ভাবছিলাম, দর্শক কীভাবে আমাদের সিনেমাটিকে নেবেন। সবাই দাঁড়িয়ে আমাদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছিলেন—এই মুহূর্তটা আমার জন্য বিশেষ। আমি অঝোরে কাঁদছিলাম। আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল। প্রথমবারের মতো সিনেমাটি একসঙ্গে দেখলাম। সিনেমাটির দর্শক রেসপন্স দেখে মনে হচ্ছে, আমি সার্থক। এটা আমাদের দেশের জন্য বড় প্রাপ্তি।’
সিনেমা শেষ হলে দলের চারজনকে নিয়ে মঞ্চে ওঠেন রেহানা পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ। শত শত দর্শকের সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আঁ সার্তেঁ রিগায় সিনেমাটি নির্বাচিত হয়েছে, এটা আমাদের জন্য অবিশ্বাস্য। সিলেকশন কমিটি ও উৎসব কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। তাদের কারণেই সিনেমাটি নিয়ে এখানে আসতে পেরেছি। হয়তো সিনেমাটি দেখে আপনাদের ভালো লেগেছে।’ প্রযোজক সূত্রে জানা যায়, সিনেমাটি বাংলাদেশের দর্শক সেপ্টেম্বরের দিকে দেখতে পারবেন। এ শাখায় আরও দেখানো হয় অনোদা: টেন থাউজেন্ড নাইটস ইন দ্য জঙ্গল ছবিটি।
গতকাল অফিশিয়াল শাখায় দেখানো হয় অ্যানেত, অ্যাহেডস নি, এভরিথিং ওয়েন্ট ফাইন ছবিগুলো। স্বর্ণপামের জন্য লড়বে এ ছবিগুলো।