কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ শাখার একজন শীর্ষ দালালকে আজ বুধবার আটক করা হয়েছে। দুদকের একটি দল অভিযান চালিয়ে সেলিম উল্লাহ নামের ওই দালালকে আটকের পর বিকালে কক্সবাজার সদর মডেল থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
কক্সবাজার শহরের লালদিঘী পাড়ের হোটেল ইডেন গার্ডেনের দালালের নিজস্ব অফিস থেকে দুদক টিম তাকে আটক করে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে আটকের পর প্রায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী দুদক সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি র্যাব সদস্যরা কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় কর্মরত সার্ভেয়ার ওয়াসিম, ফরিদ উদ্দিন ও সার্ভেয়ার ফেরদৌস খানের বাসায় অভিযান চালিয়ে ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ঘুষের টাকাসহ বিপুল পরিমাণ কাগজপত্র জব্দ করে। সেই সঙ্গে র্যাব সদস্যরা সার্ভেয়ার ওয়াসিমকে আটক করেন।
পরে গত ১০ মার্চ দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দীন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সার্ভেয়ার ওয়াসিম ও পলাতক সার্ভেয়ার ফেরদৌস খান এবং সার্ভেয়ার ফরিদ উদ্দিনকে আসামি করা হয়।
দুদকের গতকালের অভিযানে আটক হওয়া শীর্ষ দালাল সেলিম উল্লাহকে একই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আটক সেলিম উল্লাহ মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুরের কায়দাবাদ এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দীন। অভিযানে দালাল সেলিম উল্লাহর অফিস থেকে ৬২ লাখ ৬২ হাজার টাকার ৩৪টি মূল চেক ও ঘুষ লেনদেন হিসাবের ৮/১০টি ডায়েরি ও বিপুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণের আবেদনের ফাইল জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানে নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তা দুদক কর্মকর্তা মো. শরীফ উদ্দীন জানান, র্যাবের অভিযানে ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ঘুষের টাকাসহ সার্ভেয়ার ওয়াসিম আটকের ঘটনায় দুদকের দায়ের করা মামলায় দীর্ঘ তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে জমি অধিগ্রহণে ঘুষ লেনদেনে সেলিম উল্লাহর জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। সেই প্রমাণের ভিত্তিতে ওই মামলায় তাকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ওই মামলায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে কক্সবাজারের জমি অধিগ্রহণের ঘুষ লেনদেনে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে সবাই ওই মামলায় আসামি করা হবে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান কবীর বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া সেলিম উল্লাহকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, র্যাবের অভিযানে ঘুষের টাকাসহ গ্রেপ্তার হওয়া সার্ভেয়ার ওয়াসিম ইতিমধ্যে আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে তা পুনরায় উচ্চ আদালতে স্থগিত করা হয়।