রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫০ অপরাহ্ন

দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ করা হবে

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫০ জন নিউজটি পড়েছেন

দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে একহাজার ৭০০ ফুট সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এই সম্প্রসারণের উদ্দেশ্য এই বিমানবন্দরে যেন সুপরিসর বিমান ওঠানামা করতে পারে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের এই সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে ‘বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ’ (বেবিচক)। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা। যৌথভাবে এ কাজটি করবে ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান ‘সাইওয়েব’ (সিওয়াইডব্লিইইবি) ও চায়না প্রতিষ্ঠান ‘চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন’ (সিসিইসিসি)। আজ অনুষ্ঠেয় ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র বৈঠকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে। জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সিঙ্গাপুর থেকে সভাপতিত্ব করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে সুপরিসর বিমান চলাচল উপযোগী আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার লক্ষ্যে ইতোপূর্বে এর রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট থেকে ৯ হাজার ফুটে এবং প্রস্থ ১২০ ফুট থেকে ২০০ ফুটে উন্নীত করার পাশাপাশি রানওয়ের শক্তি বৃদ্ধিকরণ, এয়ারফিল্ড লাইটিং সিস্টেম স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক কাজ সম্পাদন করা হয়েছে।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৬ মে কক্সবাজার বিমানবন্দরে ই-৭৩৭-৮০০ বিমান উড্ডয়ন-অবতরণ উদ্বোধনকালে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পূর্ণ লোডে সুপরিসর বিমান চলাচল নিশ্চিতকরণসহ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য রানওয়ের দৈর্ঘ্য ১২ হাজার ফুটে উন্নীতকরণের মৌখিক নির্দেশনা প্রদান দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে প্রেক্ষিতে মহেশখালী চ্যানেলের দিকে রিক্লেইমেশন প্রক্রিয়ায় আরও ৩ হাজার ফুট রানওয়ে সম্প্রসারণে সমীক্ষা, পেভমেন্ট, এয়ারফিল্ড লাইটিং সিস্টেম, জিওমেট্রিক ও স্ট্রাকচারাল ডিজাইন, ড্রইং ও ডকুমেন্ট প্রণয়নের জন্য বিআরটিসি ও বুয়েট-কে নিয়োগ দেয় বেবিচক। একই সঙ্গে হাইড্রোলজিকাল ও মরফোলজিকাল স্টাডি, বাঁধ রক্ষা ডিজাইন, ড্রইংয়ের জন্য ‘ইনস্টিউিট অব ওয়াটার মডেলিং, ‘ডাচ্ হাইড্রোলিক ইনস্টিটিউট’ ও নেদারল্যাণ্ডেরুরয়্যাল হাসকোনিং’-কে নিয়োগ দেয়া হয়।

সূত্রমতে, রানওয়ের দৈর্ঘ্য মহেশখালী চ্যানেলের দিকে আরও ৩ হাজার ফুট সম্প্রসারণে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আপত্তি থাকায় পরবর্তীতে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ফুটের পরিবর্তে ১ হাজার ৭০০ ফুট সম্প্রসারণের নির্দেশনা দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এই নির্দেশনার আলোকে, মহেশখালী চ্যানেলের দিকে কক্সবাজার বিমান বন্দরের রানওয়ে ১ হাজার ৭০০ ফুট সম্প্রসারণে ২০১৯ সালের নভেম্বরে প্রথম দফা দরপত্র আহবান করা হলে ১০টি দরপত্র জমা পড়ে এবং এর মধ্যে মাত্র ১টি রেসপন্সিভ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ প্রেক্ষিতে চলতি বছরের গত সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় দফা দরপত্র আহবান করা হয় এবং ৭টি দরপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে দরপত্র মূল্যায়ন ও কারিগরি কমিটির বিবেচনায় ২টি দরপত্র গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। অপর প্রতিষ্ঠানটি হচ্ছে- ‘সিনোহাইড্রো কর্পোরেশন লিমিটেড’। আর্থিক প্রস্তাব বিবেচনায় দুই দরদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যৌথ প্রস্তাবক ‘সাইওয়েব’ (সিওয়াইডব্লিইইবি) ও চায়না প্রতিষ্ঠান ‘চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন’ (সিসিইসিসি)- কে মনোনীত করা হয়েছে। অন্যদিকে সিনোহাইড্রো’র আর্থিক প্রস্তাবের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭২৭ কোটি ২২ লাখ টাকা।

জানা গেছে,ক্রয় প্রস্তাবটি আজকের বৈঠকে অনুমোদিত হলে সশ্লিষ্ট দরদাতা প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে। এবং সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরে বিমানবন্দরটি সম্প্রসারণ কাজ শুরু করা হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English