দৃষ্টান্তমূলক সাজা না হওয়ায় নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ মন্তব্য করেন।
এ দিন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন এবং সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় করা একটি মামলার শুনানি গ্রহণ করা হয়। এ সময় আদালত বলেন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ীদের বিরুদ্ধে সাজা দেওয়ার হার কম। ধর্ষণ ও নির্যাতন করে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হলে নির্যাতনের শিকার নারী ও তাদের পরিবারে বিরূপ প্রভাব পড়ে। এ সময় পর্নোগ্রাফি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা দেওয়ার এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আইনজীবী অনীক আর হক।
এদিকে করোনাকালে ঘরে বসে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে ধর্ষণ মামলার শুনানির বিষয়ে আইনজীবীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. মহী উদ্দিন শামীম সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে দেবরের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, প্রতিবেশীর ধর্ষণ, প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ধর্ষণসহ এ ধরনের কয়েকটি মামলায় জামিন শুনানি গ্রহণ করা হয়।
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে হাইকোর্ট বলেন, যারা এ ধরনের মামলার শুনানি করছেন, তারা পুরোপুরি আইসোলেটেড (আলাদা) থাকুন। বাসার অন্যরা যেন এসব না শোনে। এসব তো বিব্রতকর।
তখন রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ বলেন, আমরা যারা বাসার বাইরে থেকে শুনানি করছি তারাও তো নিরাপদ নই
এ পর্যায়ে আদালত আরও বলেন, এসব এ কারণে বলছি যে, এসব একেবারেই কোর্টের ব্যাপার। পরিবারের একেকজন শুনলে কে কীভাবে নেবে।
তখন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এগুলো সামাজিক ব্যাধি। সবাইকে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।