সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৪১ পূর্বাহ্ন

ধর্ষণ বন্ধে ধর্মের বয়ান

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫৮ জন নিউজটি পড়েছেন
গৌরনদীতে বিয়ের প্রলোভনে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ

আজকাল পত্রিকার পাতা খুললেই যে বিষয়টি ভাবিয়ে তোলে সেটি হল ধর্ষণ। যেখানে শিশু থেকে শতবর্ষী বৃদ্ধা কেউই রেহাই পাচ্ছে না।

আর ধর্ষকদের অধিকাংশের বয়স বিশ থেকে ত্রিশের কোঠায়। এক কথায় বলা চলে, আমাদের দেশের কিছু তরুণ বিশ্বের এ ক্রান্তিলগ্নে ধর্ষণের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ধর্ষণ বন্ধে আমাদের করণীয়-

ধর্ষণ বন্ধে শালীন পোশাক : বর্তমান সমাজে নারী-পুরুষ সবার পোশাকেই শালীনতা আনতে হবে। পুরুষ নারীর বেশে কিংবা নারী পুরুষের পোশাক পরা যাবে না। এখানে ইসলাম ব্যক্তি স্বাধীনতাকে নষ্ট করেনি বরং অশ্লীলতাকে নিষেধ করেছে।

সমাজের নারী-পুরুষ আজ পাতলা ও আঁটোসাঁটো পোশাকের মহড়া দিচ্ছে; যা তরুণ-তরুণীদের অন্যায়ে উদ্বুদ্ধ করছে। অথচ, জারির ইবন আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, অনেক মানুষ পোশাক পরা অবস্থায় উলঙ্গ থাকেন, অর্থাৎ তার পোশাক পাতলা বা স্বচ্ছ হওয়ায় ‘সতর’ আবৃত হয় না (মাজমাউয যাওয়াইদ:৫/১৩৬)।

সংযত দৃষ্টি : নারী-পুরুষ সবার ক্ষেত্রেই চোখ নামিয়ে রাখার বিধান পবিত্র কোরআনে দেয়া হয়েছে। আমরা তা থেকে দূরে গিয়ে বরং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় আমাদের বোনদের উত্ত্যক্ত করার জন্য দলবেঁধে ওতপেতে বসে থাকি। তরুণদের নগ্ন থাবা তরুণীদের অসহায় করে তোলে, ফলে ব্যভিচার হয়।

অথচ আল্লাহতায়ালা বলেন, (হে নবী) মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে ….. আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে (সূরা আন-নূর: ৩০-৩১)।

ঠিক সময়ে বিবাহ : আমাদের সমাজ আজ বেকারত্বের অজুহাতে বিবাহকে কঠিন করে ফেলেছে; আর ব্যভিচার, পরকীয়া এমনকি ধর্ষণকেও বৈধতা দিয়েছে।

বাবা-মায়ের উচিত, সন্তান প্রাপ্ত বয়সে পড়লে তাকে বিবাহ দেয়া। বিবাহ শিক্ষা বা চাকরির জন্য অন্তরায় হয় না বরং নিরাপদ হয়। বিবাহ প্রথা কঠিন হওয়ায় সমাজের তরুণ-তরুণীরা আজ অবৈধ ভালোবাসায় জড়াচ্ছে। অথচ ঠিক সময়ে বিবাহ হলে সমস্যাগুলো সমাধান সহজ হয়ে যেত।

পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও ….. তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছল করে দেবেন (সূরা আন-নূর : ৩২)।

ব্যভিচারকে না বলুন : বিবাহবহির্ভূত উভয়ের সম্মতিতে দৈহিক সম্পর্ক হচ্ছে জেনা। কিন্তু পরকীয়ার মাধ্যমে দৈহিক সম্পর্ক হচ্ছে ব্যভিচার; আর বলপ্রয়োগ কিংবা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দৈহিক সম্পর্ক হচ্ছে ধর্ষণ। আমাদের সমাজে আজ সবই মহামারী আকার ধারণ করছে। এ থেকে বাঁচতে আল কোরআনের ছায়াতলে আসতে হবে। বলা হয়েছে, তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই এটি অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ (আল-ইসরা : ৩২)।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে : যারা পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তাদের শাস্তি হচ্ছে, তাদের হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদগুলো বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব শাস্তি আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি (আল-মায়িদাহ : ৩৩)।

নৈতিক শিক্ষায় গুরুত্ব দিন : স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে চরিত্র অবক্ষয় রোধে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ে পাঠদান ও এর গুরুত্ব বাড়াতে হবে। সম্ভব হলে বিজ্ঞান বিষয়ের মতো নৈতিক শিক্ষায়ও ২০-২৫ নম্বরের ব্যবহারিক নম্বর থাকতে পারে।

তবেই আমাদের তরুণ সমাজ ধর্ষণের ভয়াবহতা ও এর শাস্তি সম্পর্কে জানবে এবং নারীদের সম্মান দিতে শিখবে। রাসূল (সা.) বলেছেন, (ধর্মীয় আবশ্যিক) জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ (সুনানু ইবনে মাজাহ : ২২৪)।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English