নিত্যপণ্যের বাজারে বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। মৌসুমে ধানের সরবরাহ বাড়লেও চালের দাম কমেনি। সপ্তাহের ব্যবধানে এ দুটি পণ্য ছাড়াও পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ ও আলুর দাম বেড়েছে। তবে শুকনা মরিচ ও ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে ভোজ্যতেলের দাম লিটারে তিন থেকে চার টাকা বেড়েছে। গতকাল থেকে দাম বেড়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১০৪ থেকে ১০৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ লিটারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০ টাকা বেড়ে ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল কিনতে ১১৫ থেকে ১২৫ টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এ ছাড়া খোলা পাম তেলের দামও বেড়েছে। এক লিটার সুপার পাম ৯৬ থেকে ৯৮ টাকা ও পাম তেল ৯৩ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মিরপুরের উত্তর পীরেরবাগ বাজারের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন জানান, দেশের ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলোর নতুন নির্ধারিত দরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তেল বাজারে আসছে। শুরুতে কম দামে বিক্রি করলেও ধীরে ধীরে দর বাড়াচ্ছে। গত সপ্তাহে অনেক বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে কোম্পানিগুলো। তবে এখনও বোতলের গায়ে দেওয়া নির্ধারিত দরের চেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল ৬২৫ টাকা খুচরা মূল্য নির্ধারিত আছে। এ ছাড়া খোলা তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সয়াবিন কেজি ১২০ টাকা ও পাম তেল ১০০ টাকায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে। কেজিতে গড়ে পাঁচ টাকা বেড়ে দেশি মুড়িকাটা নতুন পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা ও পুরোনো হালিকাটা পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দর বৃদ্ধির বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, আমদানি পেঁয়াজের সরবরাহ কমেছে। নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ তেমন বাড়েনি। এতে দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। তবে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লে দাম স্বাভাবিক থাকবে বলে মনে করেন তিনি।
চলতি মাসের শুরুতে চালের দাম বাড়ে। টানা দুই সপ্তাহে ধীরে ধীরে কেজিতে চার থেকে আট টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এখন ভর মৌসুমে বাজারে চালের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি, বরং বাড়ছে। বর্তমানে বাজারে খুচরায় প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, মাঝারি চাল ৫২ থেকে ৫৬ টাকা ও সরু চাল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। গত বছরের মৌসুমের একই সময়ের চেয়ে মোটা চালে ৪৮ শতাংশ বেশি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ী মঈন উদ্দিন বলেন, মিলগুলো ধানের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে দাম বাড়িয়েছে। মৌসুমের এই সময়ে ধানের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। তার পরও তারা দাম আরও বাড়ানোর সুযোগ খুঁজছেন। চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আমদানি বাড়াতে সরকারের ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
অন্যান্য নিত্যপণ্যের মধ্যে আলুর দামও কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে আবারও ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় উঠেছে। অন্যান্য সবজির দাম কমে গেলেও বাজারে আলুর দাম বেড়েছে। দেশি হলুদের দাম কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে ২০০ থেকে ২৪০ টাকা হয়েছে। তবে আমদানি করা হলুদ ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদার দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে দেশি আদা ৯০ থেকে ১০০ টাকা ও আমদানি করা আদা ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কমেছে শুকনা মরিচ ও ব্রয়লার মুরগির দাম। প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা কমে দেশি শুকনা মরিচ ২০০ থেকে ২২০ টাকা ও আদানি করা শুকনা মরিচ ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা হয়েছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে পাঁচ টাকা কমে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।