দুনিয়ার সুন্দর অবলীলায় চলার পথে আমাদের কতরকমের বন্ধুবান্ধবের সূচনা হয় একেক অভিজ্ঞতায়। পরিচয় হয়, কথা হয়, বন্ধুত্ব হয় তা সত্যিই চমৎকার!
কিন্তু সব বন্ধু এক নয়। একেকজনের কৃষ্টি কালচার একেকরকম, চিন্তাধারাও ভিন্ন। কিছু বন্ধুত্ব হারিয়ে যায় চলার পথে, আবার কিছু বন্ধুত্ব আজীবন টিকে থাকে মায়ার বন্ধনে। এটিই প্রকৃতির নিয়ম। যতকাল আমরা থাকব ততকাল বন্ধুবান্ধব থাকবেই। কালক্রমে বন্ধুবান্ধবের ধরন হবে ভিন্ন। জীবনের একেক পরিস্থিতিতে একেক সময়ে একেকজন আগমন করে। কেননা, বন্ধুবান্ধব ছাড়া জীবন অসম্পূর্ণ।
যাই হোক, আমাদের কারো জীবনে মডার্ন বন্ধুর সমাবেশ যেখানে দ্বীনি বা ধার্মিক বন্ধুর নেই ছিটেফোঁটা। আবার কারো জীবনে রয়েছে কিছুসংখ্যক ধার্মিক বন্ধু সাথে আছে মডার্ন বন্ধুও। আবার কেউবা হেদায়াতের স্বাদ গ্রহণ করে দ্বীনি বন্ধুর খোঁজে ব্যস্ত আগের মডার্ন বন্ধুর সঙ্গ ছেড়ে মাশাআল্লাহ। হ্যাঁ এটিই বাস্তবতা।
আমাদের জীবনে সবরকম বন্ধুই দরকার দুনিয়ার প্রয়োজনে। কিন্তু ভেবে দেখুন আপনার বিপদে, আপনার দুঃসময়ে, এমনকি আপনি মারা গেলে তখন আপনার দ্বীনি বন্ধু থাকলে সেই আপনার জন্য সর্বক্ষেত্রে দোয়া করবে মন থেকে খুব মনে করে সবসময়। আপনি বেঁচে থাকলেও আপনার হেদায়েতের জন্য সেই দোয়া করবে। কিন্তু আপনার সেই মডার্ন বন্ধু তো নামাজই পড়ে না ঠিকভাবে, আর কী দোয়া করবে! মারা গেলেও সে একটু দুঃখ করে ক’দিন পর আপনার কথা ভুলে যাবে। তাই সে-ই উত্তম বন্ধু যে আপনাকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় সবসময়। আর সে-ই তুচ্ছ বন্ধু যে আল্লøাহর কথা স্মরণ করানো থেকে আপনাকে বিরত রাখে, দুনিয়ার রঙতামাশায় ডুবে থাকতে উৎসাহ দেয় সবসময়।
আর বন্ধু বাছাইয়ে সতর্ক হতে হবে। একজন ছেলে কখনো একজন মেয়ের বন্ধু হতে পারে না। প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়ের বিষয়ে ইসলামের বিধান অবশ্যই মানতে হবে।
পারিবারিক কারণে অনেকেই শৈশব থেকে ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। ওই বঞ্চিতের কারণে তারা বড় হওয়া অবধি দুনিয়াকে তাদের মতো করে গুরুত্ব দিচ্ছে, তৈরি করছে ফ্যাশন্যাবল বন্ধু এবং দুনিয়ার রঙে রাঙাচ্ছে প্রতিনিয়ত নিজেকে। তাই ইসলাম পালন থেকে আজ তারা বহু দূরে। তারা বুঝে নিচ্ছে না কেন আল্লাহ তাদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন? কী উদ্দেশ্য মূলত জীবনের?
মহান আল্লাহ কুরআনে বলেছেনÑ ‘যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন যাতে তোমাদের পরীক্ষা করেন, আমলের দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি সর্বোত্তম? তিনি (একদিকে যেমন) মহাশক্তির, (আবার অন্যদিকে) অতি ক্ষমাশীল’ (সূরা মুলক, আয়াত-২)।
তাই মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত ইসলামের মূল বিষয় জানা, কুরআন অনুবাদ করে পড়ে জীবনের মর্ম খুঁজে নেয়া। দুনিয়াতে যেমন একটি লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করি, তেমনি মৃত্যুর পরের জীবনের লক্ষ্য হলো জান্নাত। যা অর্জন করার জন্য আমাদের কষ্ট করতে হবে দুনিয়াতে থেকেই যে যেমন পরিবারে বেড়ে উঠুক না কেন। কেননা, দিন শেষে এটিই মুখ্য উদ্দেশ্য জীবনের।