মুসলিম সন্তান জন্মের পর একটি সুন্দরতম নাম নির্বাচন তার অন্যতম অধিকার। শিশু জন্মের পর প্রত্যেক মুসলিম মা-বাবার অবশ্য কর্তব্য হচ্ছে তাঁর সন্তানের একটি ইসলামী নাম নির্বাচন করা। কারণ ব্যক্তির নাম তার স্বভাব চরিত্রের ওপর ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
আমাদের দেশের অনেক মানুষই ইসলামী নাম রাখতে আগ্রহী। কিন্তু এ বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাবে তা সম্ভব হয় না। আরবি কিংবা কোরআনে বর্ণিত কোনো শব্দ হলেই যে তা ইসলামী নাম হয়ে যাবে, বিষয়টি মোটেও এমন নয়। কাজেই নাম নির্বাচনে কোনো ইসলামী স্কলার বা আলেমের পরামর্শ গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক।
নবজাতকের নাম রাখার সময়কালের ব্যাপারে রাসুল (সা.) থেকে তিন ধরনের বর্ণনা আমাদের সামনে রয়েছে। এক. শিশু জন্মের পরপরই তার নাম নির্বাচন করা। দুই. শিশু জন্মের তৃতীয় দিন তার নাম নির্বাচন করা। তিন. শিশু জন্মের সপ্তম দিনে তার নাম নির্বাচন করা। এখানে তিনটির যেকোনো একটির ওপর আমল করার অবকাশ ইসলাম আমাদের দিয়ে রেখেছে। (তাসমিয়াতুল মাউলুদ : ১/১০)
আল্লাহর কাছে সবচেয়ে উত্তম নামের ব্যাপারে সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে—রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের নামসমূহের মধ্যে আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় হচ্ছে আব্দুল্লাহ (আল্লাহর বান্দা) ও আব্দুর রহমান (রহমানের বান্দা)।’ (হাদিস : ৩৯৭৫)
যেহেতু এই নামগুলোতে আল্লাহর দাসত্বের স্বীকৃতি পাওয়া যায়।
মুসলিম শিশুর নাম কোনো একজন নবীর নামেও রাখা যেতে পারে। কারণ তাঁরা আল্লাহর মনোনীত বান্দা। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা আমার নামে নাম রাখো, আমার উপনামে উপনাম রেখো না।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৮৩৭)
পবিত্র কোরআনের ২৫ জন নবী-রাসুলের নাম বর্ণিত আছে। সেগুলো থেকে যেকোনো নাম মুসলিম নবজাতকের জন্য নির্বাচন করা যেতে পারে।
যে ধরনের নাম রাখা হারাম : আল্লাহর নাম নয় এমন কোনো শব্দের সঙ্গে গোলাম বা আব্দ (বান্দা, দাস) শব্দ যুক্ত করে নাম রাখা হারাম। (হাশিয়াতু ইবনে আবেদীন : ৫/২৬৮)
যেমন—আব্দুশ শামস (সূর্যের দাস), আব্দুল কামার (চন্দ্রের দাস), আব্দুল মোত্তালিব (মোত্তালিবের দাস), আব্দুল কালাম (কথার দাস), আব্দুন নবী (নবীর দাস), গোলাম রাসুল (রাসুলের দাস), গোলাম নবী (নবীর দাস), আব্দুল আলী (আলীর দাস), আব্দুল হোসাইন (হোসাইনের দাস), গোলাম মুহাম্মদ (মুহাম্মদের দাস), গোলাম আব্দুল কাদের (আব্দুল কাদেরের দাস) ইত্যাদি।
মানুষ যে উপাধির উপযুক্ত নয় অথবা যে নামের মধ্যে মিথ্যাচার রয়েছে কিংবা অসার দাবি রয়েছে এমন নাম রাখাও হারাম। শাহেনশাহ (জগতের বাদশাহ), মালিকুল মুলক (রাজাধিরাজ) এসব শব্দ নাম বা উপনাম হিসেবে নির্বাচন করা অবৈধ। অনুরূপভাবে যে নামগুলো আল্লাহর জন্য খাস, সেসব কোনো নাম মানুষের জন্য রাখা হারাম।
যে ধরনের নাম রাখা মাকরুহ : যেসব নামের মধ্যে আত্মস্তুতি পরিলক্ষিত হয় সেসব নাম রাখা মাকরুহ। যেমন—মুবারক (বরকতময়) যেন এ ব্যক্তি নিজেই দাবি করছেন যে তিনি বরকতময়, অথচ প্রকৃত অবস্থা সম্পূর্ণ উল্টোও তো হতে পারে। দাম্ভিক ও অহংকারী শাসকদের নামে নাম রাখা মাকরুহ। যেসব নামের অর্থ মন্দ, মানুষের স্বাভাবিক রুচিবোধ যেসব শব্দকে নাম হিসেবে ঘৃণা করে, ভদ্রতা ও শালীনতার পরিপন্থী কোনো শব্দ নাম হিসেবে নির্বাচন করা মাকরুহ।
অনেক ক্ষেত্রে শিশু জন্মের পর নাম রাখার ভিন্নতা দেখা যায়। দাদা এক নাম রাখেন, তো বাবা আরেক নাম রাখেন। আবার খালা এক নাম রাখেন, তো ফুফু আরেক নাম রাখেন। এভাবে একটি শিশু নাম বিড়ম্বনার শিকার হয়। এ ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা হচ্ছে শিশুর বাবার রাখা বা অনুমোদন করা নামই অগ্রাধিকার পাবে।
আল্লাহ আমাদের সন্তানদের ইসলামী সংস্কৃতি ও মুসলিম ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে নাম নির্বাচন করার সুমতি দান করুন। আমিন।