রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন

নবীজীর শিক্ষানীতি

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৪২ জন নিউজটি পড়েছেন

রাসূল সা:-এর আগমনের আগে আরব জাতি আচরণের দিক থেকে ছিল বর্বর ও অসভ্য। এমন একটি জাতিকে তিনি আল্লাহপ্রদত্ত জ্ঞানের আলোকে গড়ে তুলে শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত করেন। বৈষয়িক ও নৈতিক জ্ঞানের সমন্বয়ে একদল বিশেষজ্ঞ কর্মী তৈরি করেন যারা বিশ্বের বুকে শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী-গুণী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন। আজো জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বুদ্বিজীবী সমাজ তাদের উদাহরণ দিয়ে থাকে। বিশ্বশাসনে ওমরের মতো প্রধানমন্ত্রী, আবু বকরের মতো দয়ালু শাসক আর আলীর মতো জ্ঞানতাপস এবং আরো অসংখ্য মনীষীর স্বর্ণখচিত ইতিহাস আজো গবেষকদের মুখে মুখে ও লেখনীতে জ্বল জ্বল করছে।
রাসূল সা:-এর লক্ষাধিক সাহাবির সবাই ছিলেন জ্ঞানের মশাল। পরবর্তীতে বিশ্বের সর্বত্র তারা জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। শিক্ষার এই মূল প্রেরণা তারা লাভ করেছেন কুরআনুল কারিমের অসংখ্য নির্দেশ ও নবীজীর অনুপ্রেরণা থেকে। মহাগ্রন্থ কুরআনুল কারিমের সর্বপ্রথম নির্দেশনাই ছিলÑ ‘ইকরা, পড়–ন’। ‘ইকরা বিসমি রাব্বিকাল লাজি খালাকÑ পড়–ন আপনার রবের নামে যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন।’ রাসূল সা: ছিলেন মানবজাতির অনুকরণীয় শিক্ষক। ওহির জ্ঞানালোকে মানুষের চিন্তারাজ্যে বিপ্লব সাধনে তিনি সফল হয়েছিলেন। নিজেকে তিনি শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। তাই একদিন এক শিক্ষার আসরে তিনি বলে বসলেন, ‘আমাকে শিক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে’। রাসূল সা:-এর শিক্ষাদান পদ্ধতি ছিল অতুলনীয়। গুণগত মানে আজো তিনি জগৎসেরা শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। সমগ্র জীবনের ৬৩ বছর বয়সের মধ্যে মাত্র ২৩ বছর তার শিক্ষক জীবন হিসেবে সমাদৃত, যা তাঁর নবুয়তি জিন্দেগি হিসেবে পরিচিত। এই স্বল্প সময়ে যখন যে বা যারা তাঁর সাথে পরিচিত হয়েছেন তারাই হয়ে উঠেছেন জগদ্বিখ্যাত জ্ঞানীজন। তাঁর এসব শিক্ষার্থীকে ‘সাহাবি’ বলা হয়।
পুরুষ সাহাবিদের পাশাপাশি নারীরাও দ্বীন ও শরিয়তের ওপর উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। রাসূল সা:-এর সহধর্মিণী উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা রা: শুধু দ্বীন ও শরিয়তেই নয়, বরং সমরাস্ত্র ও বাগ্মিতার ওপর ছিলেন বিশেষ পারদর্শী। এমনকি সে যুগে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর যেকোনো অখ্যাত মহিলাও ভালো জ্ঞান রাখতেন। হজরত ওমর রা:-এর শাসনামলে একবার তিনি মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে যুবক-যুবতীদের বিয়ের সুবিধার্থে মোহরানার পরিমাণ কমানোর পক্ষে ভাষণ দিলে তৎক্ষণাৎ এক মহিলা কুরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে তার বক্তব্যের অসারতা প্রমাণে সচেষ্ট হন। এতে ওমর রা: নিজের ভুল বুঝতে পারেন। এভাবে রাসূল সা: খোদায়ি শিক্ষানীতির মাধ্যমে একটি উন্নত বুদ্ধিজীবী শ্রেণী গঠনে অগ্রনায়কের ভূমিকা পালন করেন। বুখারি শরিফের হাদিসে এসেছে, রাসূল সা: যখন সাহাবিদের কোনো বিসয়ে শিক্ষা দিতেন তিনি সময় এবং ছাত্রদের মনোযোগিতার দিকে খেয়াল রাখতেন। এটাই শিক্ষা দানের সুন্নাত পদ্ধতি।
রাসূল সা:-এর থেকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব শিক্ষার্থী সমাজ বিনির্মাণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়ে জাহেলি সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার ও বর্বরতার অবসান ঘটাতে সমর্থ হন। পৃথিবীজুড়ে অনৈতিকতার বাজার বন্ধ হয়ে নৈতিকতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পেরেছে নবীজীর সেই শিক্ষানীতি। এই জ্ঞানের জাগরণ ও বিপ্লব এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, মহানবী সা:-এর ইন্তেকালের মাত্র ৫০ বছরের মধ্যে তৎকালীন বিশ্বের সমগ্র জ্ঞান-বিজ্ঞান আরব জাতির আয়ত্তে চলে আসে। আমাদের জানতে হবে কেমন ছিল রাসূল সা: প্রণিত সেই শিক্ষাকার্যক্রম যা একটি নিরক্ষর জাতিকে এত অল্প সময়ে এতটা শক্তিশালী জাতিতে পরিণত করেছে। তবেই আজকের পৃথিবীতে জ্ঞানের ক্ষেত্রে যে দৈন্যতা ও অনৈতিকতা বিরাজ করছে আমরা তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English