শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১২ পূর্বাহ্ন

নিজের বাড়িই বিয়েবাড়ি

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৪৮ জন নিউজটি পড়েছেন

বিয়ে শব্দটি যত ছোট, আয়োজন ততটাই বড়। দুই পক্ষের শত শত ঝামেলার মধ্যে বর-কনেও যেন হারিয়ে যায় মাঝেমধ্যে। শোভাবাজার রাজবাড়ীর অমল কৃষ্ণ দেবের বিয়ের পদ্য সংকলনের প্রচ্ছদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনার মতো করে বলতে হয়—

নূতন পথের যাত্রী দুটি

ছুটছে যাহার সন্ধানে

যোগ করে দাও, এক করে দাও,

হলদে সুতোর বন্ধনে।

করোনাকালে অনেক খারাপের মধ্যে ভালো দিক—বাড়িতেই বিয়ের আয়োজন করা হচ্ছে। ছোট, পরিপাটি, সুন্দর করে। সবচেয়ে কাছের মানুষেরাই হচ্ছেন নিমন্ত্রিত। ঝামেলাও যেন অনেকটা কম। সাবধানতা বরং বেশি।

বড়সড় আয়োজনে জাঁকজমকের আড়ালে যেমন ঢাকা পড়ে যেত ছোট মুহূর্তগুলো। বিয়ের সকালটা যেন যুদ্ধক্ষেত্রের মতোই লাগত। পারলারে যাওয়া, অপেক্ষা করা, সাজা, সেখান থেকে সরাসরি কমিউনিটি সেন্টারের ‘বিয়েবাড়ি’ উপস্থিত হওয়া। বাড়ির সঙ্গে শেষ দেখাটাও যেন শান্তির মতো হতো না। ৯০–এর দশকেই যেন বাড়িতে বিয়ে করার ধারাটা শেষ দেখা গেছে। আবার সেই আগের ধারা ফিরে এল। করোনার সময়ে। বিয়ের অনুষ্ঠানগুলো বাড়িতেই হচ্ছে। আনন্দ বেড়ে গেছে বহুগুণে। কনে সাজের মধ্যেও ফিরে এসেছে লাবণ্য।

নিজের বাড়িই বিয়েবাড়ি

বাড়িতে বিয়ের সময় কনে সাজ হোক হালকা। হালকা সাজেই স্নিগ্ধতা ফুটে উঠুক। মেকআপের জন্য প্রাইমার, তরল ফাউন্ডেশন, কনসিলার আর কমপ্যাক্ট পাউডার রাখুন হাতের কাছে। কনট্যুরিং করার জন্য গাঢ় বাদামি রঙের কনট্যুর প্যালেট না থাকলে বাদামি আইশ্যাডো ব্যবহার করুন। চেহারার কাট ১০ ধরনের হয় বলে জানালেন রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন।

চেহারার কাট যেমনই হোক সেটা নিয়ে আসতে হবে ডিম্বাকৃতিতে (ওভাল)। মেকআপ শুরুর আগে প্রাইমার লাগান এবং শেষে মেকআপ ফিক্সার স্প্রে করুন। এতে করে সাজ অটুট থাকবে অনেকক্ষণ।

চোখ সাজানোর সময় ভুরু সুন্দর করে এঁকে নেওয়ার পরামর্শ দিলেন আফরোজা পারভীন। চোখজোড়া বের হয়ে আসবে। বাদামি আইশ্যাডোর ওপরে সোনালি আইশ্যাডো ফুটে উঠুক আলতোভাবে। এমনকি আইলাইনার টানুন চিকন করে। মোটা আইলাইনার টানতে গিয়ে অনেক সময় আঁকাবাঁকা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। শুধু কাজল আর আইশ্যাডো দিয়েও সাজ পূর্ণ করা সম্ভব। শাড়ি লাল হলে লিপস্টিক বাদামি রাখুন। সাজে নমনীয়তা চলে আসবে। টিপ থাক কপালে। চুল বাঁধার সময় ফোলানোর প্রয়োজন নেই। বরং টান টান করে লেপ্টে পেছনে খোঁপা বেঁধে নিন।

একাধিক গয়না থাকতে পারে সাজের অনুষঙ্গ হিসেবে। আবার অলংকারের একটি সেটই কনে সাজে জমকালো ভাব নিয়ে আসতে পারে। সেটা নকশার ওপর নির্ভর করবে। বাড়িতেই যেহেতু বিয়ের অনুষ্ঠান, শাড়িই হতে পারে আদর্শ। বেনারসি হলে নকশা কম থাকুক। জামদানি বা মসলিন হলে ভারী কাজ থাকতে পারে। বাড়িতে মেহেদি লাগানোর কেউ থাকলে তো কথাই নেই। না হলে পুরোনো দিনের মতো গোল করে চারপাশে ফোঁটা দেওয়ার নকশা এই যুগেও অমলিন। সম্ভব হলে খোঁপায় গুঁজে দিন ফুল।

করোনা মহামারিকে যুদ্ধের সঙ্গেই তুলনা করা হচ্ছে। তবে থেমে থাকছে না জীবনের নানা কিছু। যেমন বিয়ে। শুধু বদলে গেছে আয়োজনের ধরন। বরং এই যুগে বাড়িতে বিয়ের বাদ্য বাজা, খাওয়া ও সেজে ওঠা নিয়ে আবার নিয়ে আসতে পারে নতুন কোনো ধারা। চারপাশের এত হইচইয়ের ভেতর বর-কনে খুঁজে নিক তাঁদের একান্ত মুহূর্ত। মনে গুনগুন করে বাজতে থাকুক—

দুই হৃদয়ের নদী একত্র মিলিল যদি

বলো, দেব, কার পানে আগ্রহে ছুটিয়া যায়॥

সম্মুখে রয়েছে তার তুমি প্রেমপারাবার,

তোমারি অনন্তহৃদে দুটিতে মিলাতে চায়॥

—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রচনাকাল ১৮৮১

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English