রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৪ অপরাহ্ন

নোবেল শান্তির জন্য ট্রাম্পকে মনোনয়ন

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৪৫ জন নিউজটি পড়েছেন

নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার তাঁর নাম প্রস্তাব করা হলো। এর আগে ২০১৮ সালেও তাঁর নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল।

নোবেল শান্তি পুরস্কার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ভীষণ আরাধ্য বিষয়। এ ক্ষেত্রে তিনি বরাবরই নিজের পূর্বসূরি বারাক ওবামাকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে আসছেন। বারাক ওবামার শান্তিতে নোবেল পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বহুবার। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বলা যায় আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজের ভাবমূর্তি বদলে দিতে এই পুরস্কারকেই পাখির চোখ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শান্তি চুক্তি করাটাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। কিন্তু সেই চুক্তি আর হয়নি। ট্রাম্পের নোবেল পাওয়াও আর হয়নি।

এবার অবশ্য নরওয়ের আইনসভার এক সদস্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম প্রস্তাব করেছেন। ২০২১ সালে শান্তিতে নোবেল পেতে পারেন এমন সম্ভাব্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে ট্রাম্পের নামটি নরওয়ের আইনপ্রণেতা ক্রিশ্চিয়ান টিবরিং প্রস্তাব করেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ।

এবারের এই মনোনয়নের ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি চুক্তি সম্পাদনে ট্রাম্পের ভূমিকাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ক্রিশ্চিয়ান টিব্রিং ফক্স নিউজ চ্যানেলকে বলেন, ‘নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাওয়া অধিকাংশের মধ্যে আমার মতে ট্রাম্পই বিভিন্ন জাতির মধ্যে শান্তি স্থাপনের জন্য বেশি চেষ্টা করেছেন।’ ইউএই-ইসরায়েল চুক্তি কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য বড় পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। একটি সহযোগিতামূলক ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত হতে পারে অঞ্চলটি।’

গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েল ও ইউএইর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ঐতিহাসিক চুক্তিটি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর করতে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

গত ১৩ আগস্ট হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, দীর্ঘ ১৮ মাসের চেষ্টার পর উপসাগরীয় দেশটি ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কে ফিরতে রাজি হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলও পশ্চিম তিরে বসতি স্থাপন পরিকল্পনা স্থগিতে সম্মত হয়েছে।

২০২০ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ৩১৮ জন মনোনয়ন পেয়েছেন। এই মনোনয়ন অনলাইনে জমা পড়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়ন পাওয়া সবাইকে নিয়েই আলোচনা হবে। তারপর তাদের মধ্য থেকে একটি ক্ষুদ্র তালিকা প্রণয়ন করা হবে।

মনোনয়নের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য প্রাথমিকভাবে মনোনীত হলেন। এখন নানা যাচাই-বাছাই চলবে।

নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য এবারই অবশ্য প্রথম ডোনাল্ড ট্রাম্প মনোনীত হননি। এর আগে একই ব্যক্তি তাঁকে মনোনীত করেছিলেন। সেবার শান্তিতে তাঁর অবদানটি ছিল উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে। সিঙ্গাপুরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের কারণে তাঁর নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। দুঃখের বিষয়, সে শান্তি পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে ওঠেনি। শান্তি চুক্তিও আর হয়নি।

দ্বিতীয়বার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মনোনীত করার কারণ জানতে চাইলে নরওয়ের এই আইনপ্রণেতা বলেন, ‘আমি ট্রাম্পের কোনো বড় ভক্ত নই। কিন্তু আরও অনেকেই আছেন, যারা তাঁর চেয়ে অনেক কম কাজ করেই পুরস্কারটি পেয়েছেন।’

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে শান্তিতে নোবেল দেওয়া হয়। মার্কিন মসনদে বসার মাত্র ৯ মাসের মধ্যে এ পুরস্কার পাওয়ায়, বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English