লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়ন সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ছোঁড়া গুলিতে নিহত জাহিদুল ইসলামের (২২) লাশ তিনদিন পর ফেরত দিয়েছে বিএসএফ। গত বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে ওই সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীদের সহায়তায় গরু আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন জাহিদুল।
শুক্রবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে সীমান্তের ৮৫২ নম্বর মেইন পিলারের নিকট দিয়ে নিহত জাহিদুল ইসলামের লাশ তার বাবা দুলাল হোসেনের নিকট হস্তান্তর করে ভারতীয় মেকলিগঞ্জ থানা পুলিশ। এ সময় ভারতের কোচবিহার জেলার মেকলিগঞ্জ মহকুমার একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, রাণীনগর ১৪০ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের রতনপুর বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ডার শ্রী দিবাস, শ্রী বিবেক রায় ও মেকলিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মৃত্যুঞ্জয় এবং বাংলাদেশের পাটগ্রাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমন কুমার মহন্ত, রংপুর-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের শমসেরনগর বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আজহারুল ও বুড়িমারী কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আজাহার উপস্থিত ছিলেন।
সীমান্ত সূত্র ও বিজিবি জানায়, গত বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) শ্রীরামপুর ইউনিয়ন সীমান্তের ৮৫২ নম্বর মেইন পিলার ও সাব পিলার ৫ নম্বরের কাছ দিয়ে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীদের সহায়তায় বাংলাদেশি গরু পারাপারকারীদের একটি দল ভারত থেকে গরু আনতে যায়। এ সময় বিএসএফের কৌশিক ক্যাম্প ও রতনপুর ক্যাম্পের মাঝামাঝি সীমান্তে পৌঁছলে ভারতের ১৪০ রাণীনগর বিএসএফ ব্যাটালিয়নের রতনপুর ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। গুলিতে শ্রীরামপুর ইউনিয়নের মধ্য ইসলামপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। নিহত বাংলাদেশির লাশ ভারতীয় সীমান্ত অংশে দুপুর পর্যন্ত পড়ে থাকে। ওই দিন দুপুর ১টায় ভারতের মেখলিগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে যায়।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমন কুমার মহন্ত জানান, উভয় দেশের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ভারতীয় পুলিশ নিহতের বাবা দুলাল হোসেনের নিকট লাশ হস্তান্তর করে।