নদীতে প্রচণ্ড স্রোত ও নাব্য সংকটের কারণে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় প্রায় এক হাজার ১০০ ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে চলাচলরত ১৬টি ফেরির মধ্যে বনলতা ও শাহ আলী নামের দুটি ফেরি মেরামতের জন্য পাটুরিয়া ভাসমান কারখানা মধুমতীতে পড়ে থাকায় ১৪টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এতে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যানজট দেখা দেওয়ায় বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাস ও কোচ পারাপার করছে। ফলে পণ্যবাহী ট্রাকচালকদের তিন-চার দিন করে ঘাটেই পড়ে থাকতে হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা যশোরগামী ট্রাকচালক বিল্লাল হোসেন জানান, তিনি গত রোববার বিকেলে পাটুরিয়া ঘাটে আসেন। কিন্তু ফেরি স্বল্পতা ও নদীতে স্রোতের কারণে ফেরি চলাচলে সময় বেশি লাগছে। নাব্য সংকটের কারণে ঘাটে ফেরি ভিড়তেও সমস্যা হচ্ছে। এতে করে ঘাটে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজটের কারণে বুধবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষায় থেকেও ফেরির টিকিট পাননি তিনি।
চট্টগ্রাম থেকে আসা বরিশালগামী ট্রাকচালক ফরিদ হোসেন জানান, রোববার রাতে পাটুরিয়া ঘাটে আসেন। কিন্তু বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষায় থেকেও টিকিট পাননি। এ রকম প্রায় এক হাজার ১০০ ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় ঘাট এলাকায় পড়ে রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অফিসের এজিএম জিল্লুর রহমান জানান, পদ্মা ও যমুনা নদীতে প্রচণ্ড স্রোতের কারণে ঘাটে ফেরি ভিড়তে সমস্যা হচ্ছে। এ ছাড়া নাব্য সংকটের কারণে ফেরিগুলো সোজা চলাচল করতে পারছে না। ফেরিগুলোকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে।
গত শনিবার থেকে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচলে সমস্যা হওয়ায় পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। এ কারণে প্রতিদিন ঘাট এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যাত্রীবাহী যানবাহনের চাপ থাকায় সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে। এতে পণ্যবাহী যানবাহন অপেক্ষায় থাকছে।