মার্চ টু মার্চ- কাকতালীয়ভাবে মাসটাও মিলে গেল। ২০১৭-এর মার্চে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে এই পিএসজির বিপক্ষেই রূপকথার গল্প লিখেছিল বার্সা। প্রথম লেগে ৪-০ গোলে হারার পর ফিরতি লেগে ক্যাম্প ন্যুতে দাঁড়িয়ে ৬-১ গোলের মহাকাব্য বার্সাকে নিয়ে যায় নতুন উচ্চতায়। গুনে গুনে চার বছর পর আবারও বার্সার সামনে সেই অঙ্ক মেলানোর পালা। এবার অবশ্য নিজেদের মাঠে নয় অগ্নিপরীক্ষাটা দিতে হবে প্যারিসে। প্রথম লেগে ৪-১ ব্যবধানে হারার পর পরের ধাপে পা দিতে বার্সাকে আজ লিখতে হবে আরেকটি রূপকথা।
>> আবারও নেইমারহীন পিএসজি
তাকে খেলানোর জন্য অধীর ছিল পিএসজি। কিন্তু মাঠে নামার একদিন আগেই এলো দুঃসংবাদ। চোট থেকে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না ফরাসি ক্লাবটি। পিএসজির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নেইমার এখনও শতভাগ ফিট নয়। সে আপাতত একাকী অনুশীলন করছে। অবশ্য নেইমারকে ছাড়া খুব বেশি টেনশনের কিছু নেই পিএসজির। কেননা প্রথম লেগেও ছিলেন না ব্রাজিলিয়ান তারকা। আর তাকে ছাড়াই লিগ ওয়ানের ক্লাবটি বার্সাকে উড়িয়ে দেয় তাদের উঠোনে।
>> প্রত্যাবর্তন যাদের ডিএনএতে
পারলে বার্সাই পারবে! হ্যাঁ, অতীত ইতিহাস দেখে রোনাল্ড কোম্যানের শিষ্যরা এমনটা বুকে হাতে রেখে বলতেই পারেন। তবে প্রতিবার যে একরকম হবে, সেটাও হলফ করে বলা মুশকিল। তবে পরিসংখ্যান দেখে আত্মবিশ্বাসের জ্বালানিটা পরিপূর্ণ করে নিতেই পারে বার্সা। কেবল পিএসজির কেন; এই তো সে দিনও কোপা দেল রের বিপক্ষে দারুণ প্রত্যাবর্তন করেছে বার্সা। প্রথম লেগে ২-০ গোলে হেরে দ্বিতীয় লেগে ৩-০ ব্যবধানে জিতে নেয় তারা। তাদের ডিএনএতেই প্রত্যার্বতন লেখা। ২০০০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টারে চেলসির বিপক্ষেও দারুণ একটা কামব্যাকের চিত্রনাট্য লিখেছিল কাতালানরা। এরপর ২০১৪ সালে লা লিগায় রিয়ালের বিপক্ষে ৪-৩ গোলের একটা প্রত্যাবর্তন রয়েছে বার্সার নামের পাশে। ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে এসি মিলানের সঙ্গে হেরে বিদায় নেওয়ার উপক্রম হওয়া বার্সা ঠিকই ঘুরে দাঁড়ায়। যেটা এখনও এই প্রতিযোগিতায় সেরা প্রত্যাবর্তনের একটি।
>> কাতালানদের পথটা কঠিন
খুবই কঠিন; বলা যায় অসম্ভবও। আর এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে হবে বার্সাকে। সেজন্য কোনো প্রকার হিসাব-নিকাশ ছাড়াই আজকের ম্যাচটা জিততে হবে ৪-০ ব্যবধানে। তাতে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৪ গোলে এগিয়ে থেকে কোয়ার্টারের টিকিট যাবে বার্সার হাতে। বিপরীতে পিএসজির জন্য একদমই সোজা রাস্তা। তারা যদি গোল না খেয়ে কোনো গোল নাও করে তবুও বার্সার বিদায়ঘণ্টা বাজবে। অর্থাৎ ম্যাচ ড্র হলে পিএসজিরই লাভ। তবে বার্সা যদি ৩-০ ব্যবধানে জেতে তাহলে ভিন্ন হিসাবে যেতে হবে। দুই লেগ মিলিয়ে তখন স্কোর হবে ৪-৪; সেক্ষেত্রে ‘অ্যাওয়ে গোলে’র নিয়ম কার্যকর হবে। আর দুই লেগ মিলে যে দল অ্যাওয়েতে বেশি গোল করবে তারাই যাবে পরের রাউন্ডে।