শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন

পেঁয়াজের দাম সামান্য কমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১
  • ৫৪ জন নিউজটি পড়েছেন
হিলিতে ফের বাড়লো আমদানিকৃত পিয়াজের দাম

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন ও পবিত্র রমজানের কারণে হঠাৎ করেই বেড়েছিল নিত্যপণ্যের দাম। তবে আগের চেয়ে দাম না কমলেও বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। পেঁয়াজের দামে ক্রেতাদের কিছু হলেও স্বস্তি মিলছে। তবে প্রধান খাদ্যপণ্য চালের দাম এখনও কমেনি। মোটা চাল কেজিপ্রতি পড়ছে ৫০ টাকা। মাঝারি মানের বিআর আটাশ ও পাইজাম চাল ৫৫ থেকে ৫৮ এবং সরু চাল মিনিকেট কিনতে লাগছে ৬০-৬৫ টাকা।

ক্রেতারা অভিযোগ করে বলছেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা ঘোষণা দিয়েছিল, রমজানে নিত্যপণ্যের দামে স্বস্তি মিলবে এবং এ জন্য আগাম নানা প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এমনকি কোনো পণ্যের ঘাটতি নেই। এরপরও বেশিরভাগ নিত্যপণ্য কিনতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। একদিকে আয় বন্ধ, অন্যদিকে বাজারে বেশি দাম। এই দুই মিলে এখন কষ্টে দিন কাটছে বলে জানান সাধারণ ক্রেতারা।

এবারের লকডাউনে ত্রাণ তৎপরতা অপ্রতুল। যদিও নানা শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষের আয় কমেছে। বিশেষ করে দিনমজুরের আয় বলতে গেলে বন্ধ। রমজানের এই সময়ে বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দামে তাদের ভোগান্তি বেড়েছে।

মিরপুর-১ উত্তর পীরেরবাগের বাসিন্দা অটোরিকশাচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, বোরো মৌসুমের ধান উঠতে শুরু করেছে। অন্য বছর এ সময়ে চালের দাম কমে আসে। তাছাড়া চালের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার আমদানিও করেছে। এরপরও রমজান এবং লকডাউনের এই সময়ে বেশি দাম দিতে হচ্ছে। অথচ গাড়ি গ্যারেজে, কোনো আয় নেই। বাধ্য হয়ে মহল্লার দোকান থেকে বাকিতে কেনাকাটা করছেন। তারপরও বাজার থেকে পণ্য কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারণ, চালের কেজি ৫২ টাকা। সয়াবিন তেলের লিটার ১৪০ টাকা। আর এক কেজি মসুর ডাল ৮০ টাকা। ধারের টাকায় এত চড়া দামে সবজি কিনতে পারছেন না তারা। তবে আলুর কেজি ২০ টাকা ও ডিমের হালি ২৮ টাকা- এ দিয়েই গত সাত দিন পার করেছেন তিনি। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে আর কতদিন থাকা যাবে। এ জন্য সরকারের সহযোগিতা আশা করছেন তিনি।

জালাল উদ্দিনের মতো অনেক ক্রেতাই কষ্টে আছেন। বাজারে এখনও চিনির দাম চড়া। প্রতি কেজি চিনি খুচরা ৭০ থেকে ৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে কাঁচাবাজারে সবজির দাম আগের সপ্তাহের মতোই রয়েছে। প্রতি কেজি বেগুন, ঢ্যাঁড়স ও শসার দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা। তবে দাম কমায় লেবুর হালি এখন ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি কেজি ধনেপাতা ১০০ টাকা, টমেটো ২০-২৫ টাকা, বরবটি ও কাঁচামরিচ ৬০ টাকা কেজি। এ ছাড়া আগাম সবজি ঝিঙা ও চিচিঙ্গা এখন ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত সপ্তাহের শুরুতে বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ছিল। এখন দাম কমে আসায় ক্রেতারা অনেকটা স্বস্তি পাচ্ছেন। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়। তবে কিছু দোকানে ভালো পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আমদানি পেঁয়াজের দাম কমেছে। এখন প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, পর্যাপ্ত পেঁয়াজের সরবরাহ রয়েছে। এ কারণে বাড়তি চাহিদায় কিছুটা দাম বাড়লেও অন্যান্য পণ্যের মতো পেঁয়াজের চড়া দর স্থায়ী হয়নি। এখন পেঁয়াজের বাজার আগের দামে ফিরে গেছে।

এ ছাড়া বাজারে দাম কমেছে ডিম ও মুরগির। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের ডজনে পাঁচ টাকা কমে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English