ফ্রান্স জুড়ে হাজার হাজার মানুষ প্রস্তাবিত নিরাপত্তা বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন যা পুলিশকে আরো ক্ষমতাশালী করবে।
সম্প্রতি পুলিশের জন্য ফ্রান্সের সংসদের নিন্মকক্ষে নয়া এই নিরাপত্তা আইন পাশ হয়। যেখানে বলা হয়েছে, কর্তব্যরত পুলিশের ছবি বা ভিডিও তুললে এক থেকে তিন বছরের জেল হবে অভিযুক্তের। সিনেটের সদস্যরা এতে অনুমোদন দিলেই দেশজুড়ে এই আইনকে কার্যকর করা হবে বলে ঘোষণা করে ইমানুয়েল ম্যাক্রোর প্রশাসন।
এরপরই এই কালা আইন বাতিলের দাবিতে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়েছে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস-সহ বিভিন্ন শহরে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো কয়েক সপ্তাহ ধরে সরকারকে এই বিল সংশোধন করার জন্য বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অর্ধলক্ষাধিক লোক ফ্রান্স জুড়ে আন্দোলনে শামিল হয়েছে। যাদের মধ্যে প্যারিসেই পাঁচ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী বিক্ষোভ করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন বলেন, দেশ জুড়ে অন্তত ৬৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এসময় আট পুলিশ আহত হয়েছেন।
রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন দিয়েছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় তাণ্ডব চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করার পাশাপাশি টিয়ার শেলও ছোঁড়ে।
কয়েকদিন আগেই ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের একটি স্টুডিওতে ঢুকে মাইকেল জেকলার নামে একজন কৃষ্ণাঙ্গ সংগীত প্রযোজককে বেধড়ক মারধর করেছিল তিন পুলিশ। পরে সেই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভাইরাল হতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়।
পরিস্থিতি সামলাতে অভিযুক্ত তিন জন-সহ মোট চারজন পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ডও করে প্রশাসন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে পুলিশকর্মীদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভাল ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো।
কিন্তু, তার সঙ্গে সঙ্গে ফ্রান্সের আইনসভার নিন্মকক্ষে নয়া নিরাপত্তা আইনও পাশ করানো হয়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সাধারণ মানুষের একাংশ।