ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে তাঁর নিজ রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রণব মুখার্জির জন্মভিটা পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের নানুর থানার কীর্ণাহারের মিরিটি গ্রামে। তিনি গতকাল সোমবার বিকেলে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সেনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
প্রণব মুখার্জির মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়লে রাজ্যে নেমে আসে শোক। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, দেশ এক মহান নেতাকে হারাল। এক ভারতরত্নকে। তিনি ছিলেন ভারতীয় রাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, ‘প্রণব মুখার্জি ছিলেন আমার অভিভাবকতুল্য। তাঁর কাছ থেকে পেয়েছি স্নেহ ও উপদেশ। তাঁর মৃত্যুতে জাতীয় জীবনে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্ট হলো।’
প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে রাজ্য সরকার আজ মঙ্গলবার এক দিনের জন্য সব সরকারি দপ্তরে ছুটি ঘোষণা করেছে।
রাজ্য কংগ্রেসের প্রধান দপ্তর কলকাতার বিধানভবনে প্রণব মুখার্জির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্থাপন করা হয়েছে তাঁর প্রতিকৃতি। কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা সেখানে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। অর্পণ করছেন পুষ্পমাল্য। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার কংগ্রেস কার্যালয়ে প্রণব মুখার্জির প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শুরু হয়েছে।
আজ প্রণব মুখার্জির শেষকৃত্য হবে দিল্লির লোধিরোড শ্মশানে। তাঁর অস্থি বিসর্জন দেওয়া হবে উত্তর প্রদেশের পবিত্র তীর্থ হরিদ্বারে। পশ্চিমবঙ্গের মিরিটি গ্রামের বাসিন্দারা দাবি তুলেছেন, প্রণব মুখার্জির অস্থি যেন একবারের জন্য আনা হয় তাঁর জন্মভিটায়।
প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে গভীর শোকে মুহ্যমান মিরিটি গ্রাম। এই মিরিটিতেই জন্মেছিলেন প্রণব মুখার্জি। তাঁর শৈশবের পাঠ এখানেই। পরে পড়াশোনা করেছেন কীর্ণাহারের শিবচন্দ্র বিদ্যালয়ে।
প্রণব মুখার্জি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি থাকাকালে পূজায় নিজের গ্রামের বাড়িতে আসতেন। তিনি প্রতিবছরই দুর্গাপূজার আগে চলে আসতেন গ্রামের বাড়িতে। বাড়ির মণ্ডপে নিজেই পূজা দিতেন। চণ্ডীপাঠ করতেন। তাঁর চণ্ডীপাঠ শোনার জন্য দূরদূরান্তের মানুষ ছুটে আসত এই মণ্ডপে। তাঁর আর আসা হবে না মণ্ডপে। বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না এলাকার মানুষ। এলাকাবাসী গতকাল বিকেলে প্রণব মুখার্জির বাড়ির সামনে তাঁর প্রতিকৃতি রেখে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শুরু করেন।