অভিষেকের পর প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের দায়িত্ব নিয়েই জো বাইডেন তাঁর অভিবাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। পরিকল্পনাটি সম্পর্কে অবগত এমন এক সূত্রের বরাত দিয়ে আজ বুধবার এ কথা জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, জো বাইডেনের অভিবাসন পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান লাখো অনিবন্ধিত অভিবাসীর জন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার দরজা খোলা হবে। এ প্রক্রিয়া চলবে কয়েক বছর ধরে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশ থেকে অভিবাসন, বিশেষত মধ্য আমেরিকার দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের মূল কারণটিকে চিহ্নিত করে, তা নিরসনের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি সীমান্তে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। বিলটি আজ বুধবার শপথ গ্রহণের পরপরই বাইডেন কংগ্রেসে পাঠাতে পারেন।
নির্বাচনী প্রচারের সময় বাইডেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট হলে অভিবাসন সংস্কারকে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন। শপথ গ্রহণের পরপরই বাইডেন তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নিলে তা যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান অভিবাসন-বিরোধী মনোভাব এবং বিশেষত ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছরের প্রেসিডেন্সির বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত অবস্থানের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেবেন বাইডেন। এ ক্ষেত্রে বাইডেনের ওপর অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনেরও চাপ ছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় অবৈধ অভিবাসীদের যেভাবে বিতাড়ন করা হয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের সময়ও সে ধারা অব্যাহত থাকবে। এ কারণে এই অংশগুলোকে আশ্বস্ত করতেই হয়তো বাইডেন তাঁর মেয়াদের শুরুর দিনেই অভিবাসীদের জন্য ইতিবাচক এই পদক্ষেপ নিতে চান।
সিএনএন জানায়, বাইডেনের অভিবাসন পরিকল্পনার একেবারে ভিত্তিমূলে রয়েছে অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব পেতে আট বছর সময় লাগবে। এই পরিকল্পনা পাস হলে, অবৈধ অভিবাসীদের পাঁচ বছরের জন্য সাময়িক অনুমোদন (টেম্পোর্যারি স্ট্যাটাস) দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা গ্রিনকার্ডের আবেদন করতে পারবে। এই সময় পার হলে আরও তিন বছর পর প্রয়োজনীয় সব যোগ্যতা অর্জন করলে তারা নাগরিকত্বের আবেদনও করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে থাকবেন ড্রিমাররা। ওবামা প্রশাসনের সময় নেওয়া ডিফারড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডাকা) কর্মসূচির আওতায় থাকা তরুণ অভিবাসীরা বিলটি পাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রিনকার্ডের আবেদন করতে পারবে।
অভিবাসন বিলটি সম্পর্কে সম্প্রতি কথা বলেছিলেন নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও। এ সম্পর্কে তিনি এক টেলিভিশন চ্যানেলে বলেন, ‘বিলটি নাগরিকত্ব পাওয়ার একটা পথ তৈরি করবে। এ ক্ষেত্রে বর্তমানে ৮ থেকে ১৩ বছর সময় লাগে। এই সময়টিকে আমরা কমিয়ে আনার চেষ্টা করব। একই সঙ্গে ডাকা কর্মসূচির আওতায় থাকা ড্রিমারদের জন্য সুরক্ষা বাড়ানো হবে। আমরা বিশ্বাস করি অভিবাসন নিয়ে এটিই সবচেয়ে চৌকস ও মানবিক পদক্ষেপ হবে।’
এ সম্পর্কিত প্রথম খবরটি প্রকাশ করে ওয়াশিংটন পোস্ট। সেখানে জানানো হয়, বিলটি নাগরিকত্বের দ্বার উন্মুক্ত করলেও কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বিলে বলা হয়েছে, এটি শুধু সেই সব অভিবাসীর জন্য কার্যকর হবে, যারা ২০২১ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে। মূলত মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে নতুন করে অভিবাসী স্রোত ঠেকাতেই এই বিশেষ ব্যবস্থাটি রাখা হয়েছে।
তবে তারপরও কংগ্রেসে বিলটি পাস হওয়া সহজ হবে না। একই ধরনের উদার অভিবাসন বিল ২০১৩ সালে আনা হলেও, তা রিপাবলিকান নেতাদের বিরোধিতায় পাস হয়নি। এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছর পর, রিপাবলিকান দলে কট্টর অভিবাসনবিরোধী নেতার সংখ্যা বেড়েছে বই কমেনি। তবে বাইডেনের হাতে একটি অস্ত্র রয়েছে। তা হলো কংগ্রেসের উভয় কক্ষে নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু এই অস্ত্র শুরু থেকেই প্রয়োগ শুরু করলে বাইডেনের পক্ষে প্রেসিডেন্সি সামলানো কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।