সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে আবেদনকারী প্রার্থীরা প্যানেলভুক্ত নিয়োগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। এসব প্রার্থী আবেদন করলেও কেবল লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ভাইভা পরীক্ষাসহ চূড়ান্ত ফলে তারা সুপারিশ পাননি।
আন্দোলনকারীরা বলেন, গত ৬ বছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একটিমাত্র শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। ২০১৮ সালের একমাত্র ওই পরীক্ষায় ২৪ লাখ প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। তারমধ্যে ৫৫ হাজার লিখিত পরীক্ষায় পাশ করলেও ১৮ হাজার ১৪৭ জন চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হন। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পেরে প্রায় ৩৭ হাজার ১৪৮ জন নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হন। আন্দোলনকারীরা নিয়োগ বঞ্চিতদের নিজেরাই প্যানেল ঘোষণা করে সেটি থেকে নিয়োগের দাবি করেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, ২০১০, ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে প্যানেল গঠন করে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হলেও ২০১৮ সালের নিয়োগ কার্যক্রমে প্যানেল গঠনের জন্য এখনও পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কার্যকরী কোনো প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এছাড়াও প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনায় দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করা হয়। শিক্ষক নিয়োগ দ্রুততার মধ্যে শেষ করাসহ নিয়োগ কার্যক্রমে সব ধরনের কোটা বাতিলের দাবি জানান তারা।
সংগঠনের সভাপতি আবদুল কাদের বলেন, রিট জটিলতার কারণে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে কোনো সার্কুলার হয়নি। এর মধ্যে অনেকের সরকারি চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে। ফলে বিদ্যালয়ে শূন্য আসনের ভিত্তিতে এই ৩৭ হাজার ১৪৮ জনকে নিয়োগে সুপারিশ করতে হবে।
তিনি বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রাথমিকের সর্বশেষ নিয়োগে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের প্যানেল করে নিয়োগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা আকুল আবেদন জানাই। প্রধানমন্ত্রী দেশের এসব যোগ্য প্রার্থীদের চাকরির সুযোগ দিয়ে যুবসমাজকে বেকারত্ব থেকে মুক্তি দেবেন।