শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:০৮ অপরাহ্ন

ফাঁসি দিয়ে সমাজ অপরাধমুক্ত করা যায় না: প্রধান বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ৬ জুলাই, ২০২১
  • ৬৬ জন নিউজটি পড়েছেন
প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, বিচারে সাজা বা ফাঁসি দিয়ে অপরাধ থেকে সমাজকে রক্ষা করা যায় না। সন্তান হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির আপিলের শুনানিতে মঙ্গলবার তিনি এ মন্তব্য করেন।

রায়ে মামলার আসামি জসীম রাঢ়ীর সাজা কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।

তবে শুনানির একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি আরও বলেছেন, যেখানে অপরাধ মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মতো, সেখানে আদালতকে মৃত্যুদণ্ড দিতেই হবে। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ শুনানি করেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, স্ত্রী হত্যা কি বন্ধ হয়েছে? স্ত্রী হত্যায় কোনো সাক্ষীও তো লাগে না। রাষ্ট্রপক্ষ চিকিৎসকের রিপোর্ট নিয়ে এলেই স্বামীর ফাঁসি, নইলে যাবজ্জীবন। সুতরাং এটা ভুল ধারণা যে, সাজা দিলেই আমরা একদম দুধের মধ্যে ভাসতে থাকব।

শাশুড়ির সঙ্গে রাগ করে চার বছর বয়সী সন্তান শামীমকে হত্যার দায়ে ২০০৮ সালে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের জসীম রাঢ়ীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন জজ আদালত। পরে হাইকোর্টেও সেই রায় বহাল ছিল। হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে কারাগারে থেকে জেল আপিল করেন জসীম। ওই আপিল আংশিক মঞ্জুর করে গতকাল রায় দিলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারকের ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ। রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে জসীমকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে কারাগারে থাকা জসীম ইতোমধ্যে সেই সময় কাটিয়ে ফেলেছেন। সে কারণে সর্বোচ্চ আদালত রায়ে বলেছেন, অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তার না থাকলে তাকে যেন অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হয়। জসীমের পক্ষে আপিল বিভাগে শুনানি করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হেলাল উদ্দিন মোল্লা।

হাইকোর্টে বেঞ্চ বাড়ানোর আবেদন নাকচ : করোনাকালে হাইকোর্ট বিভাগের আরও অধিক সংখ্যক বেঞ্চে বিচারকাজ শুরু করার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারের আহ্বান নাকচ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, করোনায় দেশের অবস্থা খুব খারাপ। সবাইকে আরও সজাগ থাকতে হবে। মঙ্গলবার আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল শুনানিতে প্রধান বিচারপতি এ মন্তব্য করেন।

এদিন সকালে শুনানির শুরুতেই সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল হাইকোর্ট বিভাগের অধিক সংখ্যক বেঞ্চ খুলে দেওয়ার কথা বলেন। তখন প্রধান বিচারপতি তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, আপনি খবর রাখেন? দেশের অবস্থা খুব খারাপ।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English