রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন

ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ সিওপিডি

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪২ জন নিউজটি পড়েছেন

সিওপিডি বা দীর্ঘস্থায়ী অবরোধক ফুসফুসীয় ব্যাধি শ্বাসতন্ত্রের একটি গুরুতর রোগ। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর কারণগুলোর তালিকায় এ সমস্যা চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ এ রোগে আক্রান্ত

সিওপিডি কী

এটি শ্বাসতন্ত্রের রোগ। এ রোগে ক্রনিক ব্রংকাইটিস (দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসনালির প্রদাহ) এবং এমফাইসিমা বা বায়ুস্ফীতিজনিত সমস্যার কারণে ফুসফুসের স্বাভাবিক বায়ুপ্রবাহে ব্যাঘাত ঘটে। ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসে বিঘ্ন হয়। ইংরেজি পরিভাষায় একে ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি বলে। আগে রোগটিকে ক্রনিক ব্রংকাইটিস বলা হতো। তবে হাঁপানি বা অ্যাজমা এবং সিওপিডি এক নয়। সিওপিডিতে তীব্র শ্বাসকষ্ট হয় এবং এই রোগ ক্রমে গুরুতর হতে থাকে। এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য না হলেও চিকিৎসার মাধ্যমে এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে তীব্রতা কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব। সিওপিডির জটিলতাগুলো হলো ফুসফুসীয় উচ্চ রক্তচাপ, রাইট হার্ট ফেইলিউর, ফুসফুসের ক্যানসার, পলিসাইথেমিয়া, নিউমোথোরাক্স ইত্যাদি।

রোগের কারণ এবং কাদের হয়
মূলত যাঁরা ধূমপায়ী ও ৪০ বছরের বেশি বয়স, তাঁদের এ রোগের ঝুঁকি অপেক্ষাকৃত বেশি।

দীর্ঘদিন বিভিন্ন কলকারখানা, যেমন সিমেন্ট কারখানা, জুটমিলে যাঁরা কাজ করেন। যাঁরা মাটির চুলায় রান্না করেন, তাঁদেরও ঝুঁকি রয়েছে।

জিনগত কারণে।

বায়ুদূষণ।

অ্যালার্জিজনিত সমস্যা থাকলে।

গর্ভকালে মা যদি ধূমপান করেন, তাহলে শিশুর ফুসফুসজনিত রোগের সৃষ্টি করতে পারে।

জন্মের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে কম ওজন থাকলে।

লক্ষণ ও উপসর্গ
কাশি, তীব্র শ্বাসকষ্ট, শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় শব্দ হওয়া, কাশির সঙ্গে শ্লেষ্মা নির্গত হওয়া।

অনেক সময় কাশির সঙ্গে রক্তও যেতে পারে।

সামান্য হাঁটাচলাতেই হয়রান লাগা।

মাঝেমধ্যে জ্বর, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি।

শীতকালে এই উপসর্গুলো সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

রোগনির্ণয়
রোগের ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষার সঙ্গে বুকের এক্স–রে, রক্তের সিবিসি করতে হয়।

ফুসফুসের কার্যকারিতার কিছু পরীক্ষা, বুকের সিটি স্ক্যান, কফ কালচারও করতে হয়।

স্পাইরোমিটারের সাহায্যে কিছু ব্যায়ামে ফুসফুসের কার্যকারিতা ও সংক্রমণ বোঝা যায়।

চিকিৎসা
সিওপিডিতে চিকিৎসক রোগীর লক্ষণ ও পর্যায় বুঝে চিকিৎসা দেন। সংক্রমণ থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ওষুধের কম্বিনেশন থেরাপি দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। বর্তমানে নতুন কিছু কার্যকর ওষুধও বেরিয়েছে।

সিওপিডি রোগীর করণীয়
পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।

ধূমপান বর্জন করতে হবে।

ধুলাবালু, মাটির চুলার ধোঁয়া এড়িয়ে চলতে হবে, প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English