করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি এবং কঠোর লকডাউনের কারণে এবার বাংলা নববর্ষ উদযাপনে একেবারেই ভাটা পড়েছে।
গতকাল জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল মাধ্যমে নববর্ষ উদযাপনের আহবান জানিয়েছিলেন।
গতবছরও লকডাউনের মধ্যেই পহেলা বৈশাখ পালিত হয়েছিল।
এবার একদিকে লকডাউন এবং অন্যদিকে রমজানের প্রথমদিন। এ দুই পরিস্থিতিতে ঘরোয়াভাবেও বাংলা নববর্ষ পালনের আগ্রহের ঘাটতি ছিল অনেকের মধ্যে।
তবে বিভিন্ন সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠান বেশ সীমিতভাবে এবং ডিজিটাল মাধ্যমে বর্ষবরণের কিছু অনুষ্ঠান করেছে।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে পরপর দুই বছর রমনার বটমূলে কোন অনুষ্ঠান হয়নি।
বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে পথিকৃৎ হলো সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট।
১৪২৮ সালকে বরণ করার জন্য ছায়ানটের তৈরি করা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন।
একমাস রোজা রাখলে যা ঘটে আপনার শরীরে
‘বিরূপ সমালোচনা করলে মনোবল ভেঙ্গে যাবে’ – স্বাস্থ্যের মহাপরিচালক
পারিবারিক উদ্যোগ থেকে বায়তুল মোকাররম যেভাবে জাতীয় মসজিদ
রমনার বটমূলে পুরনো ধারণকৃত অনুষ্ঠানের সাথে নতুন কিছু আয়োজন যুক্ত করে ছায়ানটের অনুষ্ঠান টিভিতে সম্প্রচার করা হয়।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়ানোর জন্য ছায়ানটের শিল্পীদের একক পরিবেশনার গান এবং কবিতা আবৃত্তি আলাদাভাবে রেকর্ড করা হয়।
বাংলা নববর্ষের আরেকটি চিরাচরিত অনুষ্ঠান হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা।
প্রতিবছর একটি বিষয় বা থিম নিয়ে জাকজমকপূর্ণভাবে এই মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হতো।
কিন্তু পরপর দুই বছর এটি হয়নি। এবার প্রতীকী কর্মসূচীর মাধ্যমে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়েছিল।
সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানসহ ১৫জন ব্যক্তি শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে এই শোভাযাত্রার আয়োজন করেন।
বর্ষবরণের মঙ্গল শোভাযাত্রা ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত।
পরপর দুই বছর বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে না পারার কারণে অনেকের মনে হতাশা তৈরি হয়েছে। নববর্ষ উদযাপন করতে না পারার বেদনা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সংগীতা আহমেদ নববর্ষ উদযাপনের পুরনো ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, “সেই সব সুন্দর দিনগুলো ফিরে আসবে আবার”
নববর্ষের প্রথমদিন উদযাপন মানেই দলবেঁধে ঘুরতে যাওয়া এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া। এ দিনটিতে শহরে কিংবা গ্রামে হাজার-হাজার মানুষ ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন।
ঢাকার বাসিন্দা ফারহানা হক প্রতিবছরই নববর্ষের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। কিন্তু এনিয়ে পরপর দুবার তিনি কোন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারলেন না।
তাঁর মতে, ঘরে বসে ডিজিটাল মাধ্যমে নববর্ষ উদযাপনের মধ্যে কোন আনন্দ নেই।
“এভাবে আরে বেশি দিন চললে মানসিকভাবে বিকল হয়ে পড়বো। নববর্ষের একটা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আছে, আছে কিছু আয়োজন। লকডাউনে এটা সম্ভব না,” বলেন ফারহানা হক।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের যে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে তাতে অনেকেই এখন উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন পার করছেন।
বিশ্বজুড়ে এই মহামারি কবে শেষ হবে এবং আবার কবে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন সে আশায় দিন গুনছেন অনেকে।