বঙ্গপোসাগরের গভীরে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার মাছধরার ট্রলারডুবির ঘটনায় ৭ দিনেও উদ্ধার হয়নি নিখোঁজ সাত জেলে।
সোমবার দুপুরে দুলারহাট থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট বেলা ১১টায় সমুদ্রে মাছধরার ওই ট্রলারটি ঘূর্ণিঝড়ে পড়ে। ১৭ জন মাঝি-মাল্লাসহ ডুবে গেলে ১০ জেলে উদ্ধার হলেও নিখোঁজ রয়েছেন সাত জেলে। ডুবে যাওয়া ওই ট্রলারের মালিক মুজিবনগর ইউনিয়নের সালাউদ্দিন মাঝি। তিনি জানান, ট্রলারটি নিয়ে জেলেরা সমুদ্রে গেলে ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়, তবে কাছে থাকা অন্য একটি ট্রলার এসে ১০ জেলেকে উদ্ধার করতে পারলেও বাকি সাত জেলের এখনও পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন- মুজিবনগর ৮নং ওয়ার্ডের নজির আহমদের ছেলে আলমগীর (৩৫), বশির মাঝির ছেলে জাকির হোসেন (৩৭), আ. রব ফরাজির ছেলে আ. ছালাম (৪৫), মহিউদ্দিনের ছেলে আলি আজগর (২৫), চাঁদ মিয়ার ছেলে বাবুল (৪০) ও হাসেমের ছেলে আবু সর্দার (৪৫) এবং সামসুউদ্দিন(৪০)।
মজিবনগর ৮নং ওয়ার্ডের পাশাপাশি বাড়ির ৭ জেলে পরিবারের মধ্যে ৬ দিন যাবৎ শোকের মাতম হলেও স্থানীয় চেয়ারম্যান আবদুল ওদুদ মিয়া একদিন এসে দেখে গিয়েছেন। আর কেউ কোনো খোঁজ রাখেনি। সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়নি বলেও নিখোঁজ স্বজনদের অভিযোগ।
চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল হোসেন জানান, সমুদ্র থেকে ১০ জেলে উদ্ধার হলে কক্সবাজার থানাপুলিশ চরফ্যাশনের নিখোঁজ সাত জেলের বিষয়ে আমাদের একটি বার্তা পাঠায়। কক্সবাজার ও বাঁশখালী থানা সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সমুদ্র উপকূল থেকে প্রায় ৫ ঘণ্টা পথের গভীর সমুদ্রে ট্রলারটি ডুবে যায়। তবে ১০ জেলে উদ্ধার হলেও ৭ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজের স্বজনরা জানান, নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা তারা পাননি।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার জানান, ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ জেলেরা ছয় মাসের ভেতর উদ্ধার না হলে, বা ফিরে না এলে নিখোঁজ পরিবারকে সরকারি সহায়তা দেয়া হবে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে, চট্টগ্রাম নৌবাহিনীর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।