বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ লামচরি গ্রামের দার্শনিক আরজ মঞ্জিল পাবলিক লাইব্রেরি, সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ লামরি গ্রামকে কীর্তনখোলা নদীর করাল গ্রাসে স্থায়ী ভাঙন হতে রক্ষা করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
নদীর তীরে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি করেছেন লামচরি এলাকাবাসী ও বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি চরবাড়িয়া শাখা। রোববার বেলা ১১টায় কীর্তনখোলা কোলঘেঁষা গ্রাম চরবাড়িয়ার লামচরির নদীতে গ্রাম, জমি ও ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব অসহায় মানুষ এ কর্মসূচি পালন করেন।
চরবাড়িয়া ইউনিয়নের ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ও দার্শনিক আরজ আলি মাতুব্বরের নাতি শামীম আলি মাতুব্বরের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য উপাধ্যক্ষ হারুর উর রশিদ, বরিশাল ক্ষেতমজুর জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক জলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শাহ আজিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক বিরেন রায়, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নৃপেন্দ নাথ বাড়ৈ, ক্ষেতমজুর সমিতির স্থানীয় নেতা কালাম হাওলাদার ও কবির হোসেন মৃধা।
এ সময় নিঃস্ব অসহায় নদী ভাঙনকবলিত মানুষ স্থায়ীভাবে নদীভাঙনের হাত থেকে চরবাড়িয়ার লামচড়ি গ্রামসহ দার্শনিক আরজ আলি মাতুব্বরের স্মৃতি শেষ চিহ্নটুকু রক্ষা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উল্লেখ্য, কীর্তনখোলা নদীর করাল গ্রাসে লামচরি গ্রামের নমপাড়া, মিরাকান্দা এলাকা সম্পূর্ণ ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া দক্ষিণ লামচরি এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লামচরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ আরজ মঞ্জিল পাবলিক লাইব্রেরিতে যাতায়াত ও গ্রামবাসীর চলাচলের পাকা সড়কটির তিন কিলোমিটার পথ এবং বারো থেকে চৌদ্দশ’ পরিবারের বসতঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। সেখানকার মানুষ এখন সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন।
অপরদিকে লামচরি গ্রামের তিন অংশের দুই অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। বাকিটুকুও যেকোনো সময় নদীতে চলে গেলে চরবাড়িয়ার লামচড়ি গ্রামটি শুধু কাগজে-কলমে ইতিহাস হয়ে থাকবে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাহতাব হোসেন সুরুজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জোয়ারের পানি বৃদ্ধিতে হঠাৎ করে ভাঙন দেখা দেয়ার কারণে পাকা সড়কসহ বিভিন্ন ঘরবাড়ি নদীতে চলে গেছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম দুইবার পরিদর্শন করে তালতলী থেকে লামচড়ির সাড়ে ছয় কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ করার প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। তাছাড়া নদীভাঙন প্রতিরোধের জন্য নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও আশ্বাস দিয়ে গেছেন।