আমাদের দেশে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র খুব বেশি হয়নি। এরপরও কিছু গুণী চলচ্চিত্রকার নিজের দেশের প্রতি দায় থেকেই নির্মাণ করেছেন অসাধারণ কিছু চলচ্চিত্র। আশার কথা হচ্ছে, বর্তমান সময়ে তরুণ নির্মাতাদের অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করছেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণের ব্যাপারে। আজ বিজয় দিবস উপলক্ষে তা নিয়েই থাকছে বিশেষ আয়োজন। লিখেছেন তারিফ সৈয়দ
খান আতাউর রহমান পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মাণ করেন ‘আবার তোরা মানুষ হ’ ছবিটি। যুদ্ধ পরবর্তী সামাজিক চিত্র উঠে আসে ছবির গল্পে। এই ছবিতে অভিনয় করেন ফারুক, ববিতা, রাইসুল ইসলাম আসাদ, রোজী আফসারী, রওশন জামিলসহ অনেকে।
চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’। ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে রাজ্জাক, শাবানা, নূতন, সৈয়দ হাসান ইমাম, এটিএম শামসুজ্জামান, খলিলউল্লাহ খান প্রমুখ। এ সিনেমায় ১১ জনের ১০ জন ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন খসরু, মুরাদ, হেলাল ও নান্টু।
হারুনর রশীদ পরিচালিত ‘মেঘের অনেক রং’ সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৭৬ সালে। ছবিতে যুদ্ধের সময় রুমা নামের একজন ডাক্তারের স্ত্রী ধর্ষণের পর সন্তানসহ কীভাবে কষ্টের শিকার হয় সেই চিত্র উঠে আসে। ছবিটিতে অভিনয় করেন মাথিন, ওমর এলাহী, রওশন আরা, আদনান প্রমুখ।
আলমগীর কবির পরিচালিত ‘ধীরে বহে মেঘনা’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৭৩ সালে। ভারতীয় মেয়ে অনিতার প্রেমিক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়। সে ঢাকায় এসে যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে আরো গভীরভাবে মর্মাহত হয়। মানবিকতাবোধে আচ্ছন্ন হয় তার হূদয়। ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন বুলবুল আহমেদ, ববিতা, গোলাম মুস্তাফাসহ অনেকেই।
জনপ্রিয় লেখক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ‘আগুনের পরশমণি’। নিজের উপন্যাস থেকেই ছবিটি নির্মাণ করেন তিনি। ১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্রটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন আসাদুজ্জামান নূর, আবুল হায়াত, বিপাশা হায়াত, ডলি জহুরসহ অনেকে।
তৌকীর আহমেদ পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘জয়যাত্রা’ মুক্তি পায় ২০০৪ সালে। আমজাদ হোসেনের গল্প নিয়ে নির্মিত হয় ছবিটি। স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে একদল মানুষের সংগ্রামের গল্প। সিনেমাটিতে অভিনয় করেন আজিজুল হাকিম, বিপাশা হায়াত, মাহফুজ আহমেদ, হুমায়ুন ফরীদি, তারিক আনাম খান, আবুল হায়াত, চাঁদনী প্রমুখ।
নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘গেরিলা’। সৈয়দ শামসুল হকের লেখা উপন্যাস থেকে নির্মিত হয় ছবিটি। ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন জয়া আহসান, ফেরদৌস, এটিএম শামসুজ্জামান, রাইসুল ইসলাম আসাদ, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী ওয়াদুদ, শম্পা রেজা, গাজী রাকায়েত প্রমুখ।
মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত ছবি ‘আমার বন্ধু রাশেদ’। ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাটি মুহম্মদ জাফর ইকবালের শিশুতোষ উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি।
ছবিটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন চৌধুরী জাওয়াতা আফনান, রাইসুল ইসলাম আসাদ, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, ইনামুল হক, হুমায়রা হিমু, আরমান পারভেজ মুরাদ, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, গাজী রাকায়েত প্রমুখ।
এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রিয়াজুল রিজু পরিচালিত ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’ ছবিটি ২০১৫ সালে মুক্তি পায়। ছবিটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন শহীদুজ্জামান সেলিম, শতাব্দী ওয়াদুদ, সানজিদা তন্ময়সহ অনেকে।