কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে উন্নয়নের যে অগ্রযাত্রা সূচিত হয়েছে, সে ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। মঙ্গলবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সভাপতি মো. হামিদুর রহমানের সভাপতিত্বে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বাদশা, সংসদ সদস্য হোসনে আরা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুল মুঈদ, একুশে পদকপ্রাপ্ত কৃষিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ বক্তব্য দেন।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. রাজ্জাক বলেন, পদ্মা-মেঘনা-যমুনাপাড়ের এ অঞ্চলটি সত্যিকার অর্থে কোনো দিনই স্বাধীন ছিল না। বঙ্গবন্ধুই এই বঙ্গভূমি বা অঞ্চলটিকে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করেন। এই বাঙালি জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সুদূর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ষড়যন্ত্রকারীরা সপরিবারে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ড মানব ইতিহাসের বর্বরোচিত ঘটনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না, এটা বাস্তবতা বিবর্জিত। বঙ্গবন্ধু একটি অসাম্প্রাদায়িক, গণতান্ত্রিক, ন্যায় ও সমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন। ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি ও যুদ্ধাপরাধীরা বাংলাদেশকে এবং এ দেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্বকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর সেই আদর্শ ও চেতনাকে, বাঙালির আত্মাকে হত্যা করতে চেয়েছিল ষড়যন্ত্রকারীরা। এখনও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনাকে বারবার হত্যার চেষ্টা করছে ষড়যন্ত্রকারীরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তাছাড়া শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এ সময় অনলাইন স্ট্রিমিং অ্যাপ ‘জুম’র মাধ্যমে দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য কৃষিবিদ সংযুক্ত ছিলেন।