বিএনপিকে দাবিয়ে রাখা যাবে না।খালেদা জিয়া এখন কারাগারে। উনি কারাগারে বলেই গণতন্ত্র এখন কারাগারে, গণতন্ত্র বন্দি হয়ে আছে। আমাদের অসংখ্য নেতা প্রাণ হারিয়েছেন, গুম হয়ে গেছেন। আমাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা। তারপরও কিন্তু বিএনপিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বিএনপি আছে, চলছে এবং অত্যন্ত সোচ্চার হয়েই আছে।
মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪০তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে এই সভা হয়।
প্রতিহিংসার কারণেই সরকার উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া হাসপাতালে এখনো অসুস্থ অবস্থায় আছেন। এই সরকার প্রতিহিংসা পরায়ন, তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। আজকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য হাসপাতালের ডাক্তাররা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, বাইরে নিয়ে যাও। কিন্তু তারা (সরকার) বাইরে যেতে দিচ্ছে না। এটা হচ্ছে তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা এবং জনগণ থেকে যে বিচ্ছিন্নতা তারই প্রমাণ।
তিনি বলেন, এই সরকার সম্পূর্ণভাবে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তারা দুর্নীতিপরায়ন সরকারে পরিণত হয়েছে। জনগণের ওপরে অত্যাচারী একটা সরকারে পরিণত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী সরকারে পরিণত হয়েছে।
খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নানা দিক তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পরে সবাই ভেবেছিল যে বিএনপি শেষ হয়ে যাবে, আর দেখা যাবে না। কারণ আসল নেতাই চলে গেছেন। কিন্তু দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যিনি একজন গৃহবধূ ছিলেন, তিনি পতাকাকে তুলে ধরছেন। কিসের পতাকা? স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পতাকা, গণতন্ত্রের পতাকা। যেটাকে ধারণ করে এদেশের মানুষ বেঁচে আছে।
তিনি বলেন, এই দেশে জীবিত আছেন যে সমস্ত রাজনীতিবিদ তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মহিয়শী নেত্রী হচ্ছেন আমাদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। তার অবদান কারও চেয়ে খাটো নয়।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কখনো পিছু ফিরে তাকাবেন না। আর কখনো এই কথা মনে করবেন না যে, আমরা পারব না। আমরাই পারব এবং অবশ্যই আমরা জয়ী হব।
তিনি আরও বলেন, যে দানব আমাদের অধিকারগুলো হরণ করে নিয়েছে, যে দানব শুধুমাত্র লুন্ঠনের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে তাকে পরাজিত করে সত্যিকার অর্থেই জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক একটি সরকার আমাদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর তা করতে হবে আন্দোলন, আন্দোলন এবং আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েলের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল হাই শিকদার, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের বিথীকা বিনতে হোসাইন, ইয়াসীন আলী প্রমুখ।