গত এক দশক ধরে ফুটবল বিশ্ব মাতিয়ে চলছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি ও পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে তারা দুজনই এখন রয়েছেন তাদের ক্যারিয়ারে পড়ন্ত বিকেলে। মেসির বয়স ৩৩ হয়ে গেছে। অপরদিকে রোনালদোর বয়স হয়েছে ৩৫। ফলে আর খুব বেশি হলে রোনালদোকে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত খেলতে দেখা যাবে। এর আগেও তিনি ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে দিতে পারেন। কারণ বয়স ৩৫ বছর পেরিয়ে গেলেই আস্তে আস্তে ফুটবল খেলার দম কমে যায়। অপরদিকে মেসি হয়তো রোনালদোর চেয়ে আর ২ বছর বেশি খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে তারা দুইজন এখনো ফুটবল বিশ্বে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছেন এটি মানতেই হবে।
মেসি ও রোনালদো থাকা অবস্থাতেই নতুন করে ফুটবল বিশ্ব মাতাতে চলে এসেছে কয়েকজন তারকা। যারা মেসি-রোনালদো পরবর্তী সময়ে ফুটবল বিশ্বকে শাসন করবে। ইদানীংকালে যে ক’জন নতুন তারকার আবির্ভাব হয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বার্সালোনা ও স্পেনের তরুণ তুর্কি আনসু ফাতি। দ্বিতীয় হলেন ফ্রান্স ও লিঁওর এদোয়ার্দো কামাভিঙ্গা।
তাদের দুজনের কেউই এখনো ১৮ বছরে পা দেয়নি। মানে আইনানুযায়ী তারা দুজনই এখনো শিশু। আর এই শিশু বয়সেই তারা দেখিয়ে দিয়েছে তাদের কারিশমা। দুজনই ইতোমধ্যে গড়ে ফেলেছেন রেকর্ড। আনসু ফাতি স্পেন ও বার্সেলোনার হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করার রেকর্ড গড়েছেন। অপরদিকে কামাভিঙ্গা ফ্রান্সের প্রায় ১০০ বছরের পুরনো একটি রেকর্ড ভেঙেছেন। তিনি ফ্রান্সের হয়ে ইউক্রেনের বিপক্ষে ১৭ বছর বয়সে গোল করেন। তার চেয়ে কম বয়সে ফ্রান্সের হয়ে কোনো খেলোয়াড় গোল করেছিলেন প্রায় ১০০ বছর আগে।
এদিকে একটি ব্যাপারে রোনালদো ও মেসির মধ্যে মিল আছে। তারা দুজনই হলেন শ্বেতাঙ্গ। অর্থাৎ সাদা চামড়ার অধিকারী। অপরদিকে ফুটবলের নতুন দুই তারকা ফাতি ও কামাভিঙ্গার মধ্যে একটি দিক দিয়ে মিল আছে। আর সেটি হলো তারা দুইজনই কৃষ্ণাঙ্গ বর্ণের। তাদের মধ্যে আরেকটি মিল রয়েছে তারা দুইজনই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইউরোপের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে। কিন্তু জন্মসূত্রে তারা দুজন আফ্রিকান। ফাতির জন্ম গিনি বিসাউয়ে। অপরদিকে কামাভিঙ্গার জন্ম হলো আঙ্গোলায়। তারা দুজনই ছোট বয়সে ইউরোপে পা রাখেন। এরপর নিজেদের যোগ্যতায় তারা ফুটবলের সর্বোচ্চ উচ্চতায় আসেন।
বর্তমানে ইউরোপিয়ান ফুটবলে তাদের বিবেচনা করা হয় রতœ হিসেবে। আর রতœ বলেই তাদের কদর রয়েছে পুরো ইউরোপে। এ দুজনকে পাওয়ার জন্য ইতোমধ্যেই কাড়াকাড়ি শুরু হয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবগুলোর মধ্যে। ফাতিকে পাওয়ার জন্য ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদ জোর চেষ্টা চালিয়েছিল। অপরদিকে কামাভিঙ্গাকেও রেঁনে থেকে নিতে চেয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ।
ইউরোপিয়ান ফুটবলে এ দুজনের উত্থানের মাধ্যমে একটি কথা বেশ পরিষ্কার হয়েছে। আর সেটি হলো ফুটবলে বিশ্বে আসছে কালোদের আধিপত্য। এতদিন আধিপত্য দেখিয়েছে মেসি ও রোনালদোর মতো শ্বেতাঙ্গ ফুটবলাররা। এখন তাদের এই আধিপত্যটা চলে যাচ্ছে কৃষ্ণাঙ্গদের হাতে। বর্তমানে যে ইউরোপিয়ান ফুটবলে শুধু এই দুই কৃষ্ণাঙ্গ তারকা ফুটবল মাতাচ্ছেন তা নয়। ফ্রান্স দলের আরেক কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় কাইলান এমবাপ্পেও বিশ্ব ফুটবলের এখন বেশ বড় নাম। ২০১৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে তার বড় অবদান রয়েছে। বিশ্বকাপের আগে থেকেই তিনি ফুটবল অঙ্গনে নিজের প্রতিভার ছাপ রাখেন। যার ফলে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পান তিনি। আর সেই সুযোগ পেয়েই তা কাজে লাগাতে ভুল করেননি তিনি।
বর্তমানে এমবাপ্পেকে পাওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে ইউরোপের বড় বড় ক্লাব। যদিও তার বর্তমান ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর (পিএসজি) তাকে রেখে দিতে আরো বেশি প্রাণপণ চেষ্টা করছে। এমবাপ্পের সঙ্গে তাদের আগামী মৌসুম শেষে চুক্তি শেষ হয়ে যাবে। এখন তারা চাচ্ছে তাকে অন্তত ২০২৫ সাল পর্যন্ত রেখে দিতে। কালো খেলোয়াড়দের মধ্যে বর্তমানে যার নাম অন্যদের চেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে তিনি হলেন ব্রাজিলের ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তিনি বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদে খেলছেন। তিনি রিয়ালের হয়ে যখনই সুযোগ পাচ্ছেন তখনই গোল করে তার প্রতিদান দিচ্ছেন।