যে কোনো সম্পর্কেই ভালো-খারাপ সময় থাকে। আর প্রেমের সম্পর্কে ঝগড়াঝাঁটি হওয়াটা অনেক স্বাভাবিক বিষয়। তবে সম্পর্কে অতিমাত্রায় ঝগড়াঝাঁটি হতে থাকলে একসময় সে সম্পর্কে আসতে পারে তিক্ততা। এমনকি এর কারণে ভেঙেও যেতে পারে সম্পর্ক।
সম্পর্কের মধ্যে মতের অমিল বা দুজনের ভাবনা আলাদা হওয়াটা অনেক স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু সব সমস্যা কাটিয়ে, দূরত্ব মিটিয়ে সম্পর্ককে মসৃণ করে তুলতে হয় আবার দুজনে মিলেই। তবে সম্পর্কে দুজনের মতের পার্থক্য থাকারও রয়েছে ভালো দিক। এটি দুজনকে ভালোভাবে বুঝতে এবং অপরের কাছে নিজেকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে সাহায্য করে।
সম্পর্কে দুজনের মতের অমিল থাকার বিষয়ে ‘ফেমিনা ডট ইন’ ওয়েবসাইটে কাউন্সেলরের বলছেন, যদি সামনে বিয়ে থাকে, তা হলে হবু স্বামীর সঙ্গে যত মতান্তর হয় ততই ভালো। কারণ তাতে নিজেদের সব মতপার্থক্য মিটিয়ে নিতে পারবেন আপনারা।
তাই প্রেমিককে বিয়ে করার আগে জানুন কী কী বিষয়ে নিজেদের মতের অমিলগুলো পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত—
১. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আচরণ
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রায় সবাই ব্যবহার করে। সম্পর্কের বিয়ের পর অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সঙ্গীর ছবি শেয়ার করে থাকেন। এমন বিষয় আপনার পছন্দ না হলে সেটি সঙ্গীর সঙ্গে আলোচনা করুন। আবার আপনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো আচরণ যদি আপনার সঙ্গীর পছন্দ না হয়, সেটিও জেনে নিন। দুজনে মিলে আলোচনা করে বোঝাপড়া করে নিতে পারেন নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আচরণ।
২. সন্তানগ্রহণ
সম্পর্ককে বিয়ের পরিণতি দেওয়ার আগে সন্তান নেওয়ার বিষযটি দুজনেরই আলোচনা করে নেওয়া উচিত। আপনি বা আপনার সঙ্গী বিয়ের কত পরে সন্তানগ্রহণ করতে চান, কয়টি সন্তান নিতে চান বা এ রকম বিষয়ে দুজনের মতামত বিয়ের আগেই পরিষ্কার আলোচনা করে নিতে হবে। এ বিষযটিতে দুজনের মতের কোনো অমিল থাকলে তা বিয়ের আগেই বোঝাপড়া করে নিতে হবে।
৩. ক্যারিয়ার
সবার জীবনেই ক্যারিয়ার হচ্ছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ক্যারিয়ার শুরুর পর চাকরিজীবনে বিভিন্ন পরিবর্তন আসতে পারে। চাকরির স্থান বা চাকরি বিষয়ে সিদ্ধান্ত যেমন কেউ চাকরি ছেড়ে ব্যবসা করার সিদ্ধান্তও নিতে পারেন এমন বিষয়গুলো বিয়ের আগেই দুজনের আলোচনা করে নেওয়া ভালো। নইলে বিয়ের পর ক্যারিয়ারে কোনো পরিবর্তন আনতে হলে বা চলে আসলে সম্পর্কে দেখা দিতে পারে ঝামেলা।
৪. সাংসারিক দায়দায়িত্ব
নতুন সংসার শুরু করে অনেক রকম নতুন দায়দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয় দুজনেরই। তাই সংসারের দায়িত্বগুলো কীভাবে দুজনে ভাগ করে নেবেন, সে বিষয়ে বিয়ের আগেই আলোচনা করে নিতে পারেন। সংসারে কে কোন দায়িত্ব পালন করবেন, সে বিষয়ে ভালোভাবে আলোচনা না করা থাকলে বিয়ের পর এগুলো নিয়েই আসতে পারে অনেক অবাঞ্ছিত সমস্যা।