বুরকিনা ফাসোর উত্তরাঞ্চলে একটি গ্রামে সশস্ত্র ব্যক্তিরা হামলা চালিয়ে অন্তত ১৩২ জনকে হত্যা করেছে। দেশটির সরকার বলছে, সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা।
সোলহান গ্রামে ওই হামলার সময় স্থানীয় বাড়িঘর এবং বাজারে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। এই হামলার জন্য কোন দল দায়িত্ব স্বীকার করেনি, তবে দেশটিতে এ ধরনের হামলা সাধারণত ইসলামপন্থী দলগুলো করে থাকে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোয়।
জাতিসংঘ প্রধান বলেছেন, এই ঘটনায় তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
ওই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তার মুখপাত্র বলেছেন, এর ফলে সহিংস চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে সহায়তার প্রয়োজন, সেখানে প্রাণহানির বিষয়টি আবার বেরিয়ে এসেছে।
বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট রোচ কাবোরে দেশে তিনদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন। একটি টুইট বার্তায় তিনি বলছেন, ”অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের সবার একত্রিত হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে।”
শুক্রবার রাতে আরেকটি হামলায় সোলহান গ্রামের দেড়শ কিলোমিটার উত্তরে তাডার্য়াট গ্রামে ১৪ জন নিহত হয়েছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোয় সশস্ত্র গ্রুপগুলো হামলা আর অপহরণের ঘটনায় দেশটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
জঙ্গি হামলার জবাব দিতে গত মে মাসে বুরকিনা ফাসোর সেনাবাহিনী বড় আকারের একটি অভিযান শুরু করে। তা সত্ত্বেও নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সহিংসতা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে। গত দুই বছরে দেশটির ১০ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন।
২০১২ ও ২০১৩ সালে জঙ্গিরা আফ্রিকার বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়ার পর স্বায়ত্তশাসিত সায়েল অঞ্চলে জঙ্গি তৎপরতা বেড়েছে।
জঙ্গিদের বিরুদ্ধে মালি, চাদ, মৌরিতানিয়া, নাইজার এবং বুরকিনা ফাসোর সেনাবাহিনীকে সহায়তা করে আসছে ফরাসি সেনাবাহিনী।
কিন্তু এই সপ্তাহে মালিতে সেনা অভ্যুত্থান ঘটার কারণে মালির সেনাবাহিনীর প্রতি সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে ফ্রান্স।