শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন

বেঞ্জামিনের আত্মহত্যায় শোকে কাতর প্রিসলি পরিবার

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২০
  • ৪১ জন নিউজটি পড়েছেন

১২ জুলাই মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন কিংবদন্তি শিল্পী এলভিস প্রিসলির একমাত্র নাতি ২৭ বছরের বেঞ্জামিন কেফ। ছেলের এ রকম আকস্মিক মৃত্যুতে মা লিসা মেরি প্রিসলি তীব্র শোকে আচ্ছন্ন। তাঁর ম্যানেজার ইয়াহুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, লিসা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি তাঁর ১১ বছরের যমজ দুই মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে শক্ত থাকার চেষ্টা করছেন। বেঞ্জামিন তাঁর একমাত্র ছেলে। তাঁর জীবনের ভালোবাসা।

বেঞ্জামিন সম্পর্কে ম্যানেজার বলেন, ‘ও নানার মতো দেখতে। যাঁর নানা বিশ্বসেরা, মা ভালো সংগীতশিল্পী আর গীতিকার। বাবা আর সৎবাবাদের নাম আর ইমেজ আকাশছোঁয়া। সেই ঘরের সন্তান হয়ে তাঁর নিজের কাছ থেকে প্রত্যাশা, অন্যের প্রত্যাশার চাপ, মানসিক অবস্থা আমাদের বোঝার বাইরে। ও অভিনেতা হতে চেয়েছিল। সংগীতশিল্পী থেকে অভিনয়জগতে আসার একটা বড় চাপ ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে এক শ হাত দূরে থাকত। জনসমক্ষে আসতে চাইত না। একা সময় কাটাতেই ভালোবাসত। সবকিছু থেকে ছুটে পালাতে ও বিশ্বের নানান প্রান্তে ছুটে বেড়াত। দীর্ঘদিন ধরে সেটাও হচ্ছিল না। কী দিয়ে যে কী হলো, আমরা আর কখনোই জানব না।’

‘কিং অব রক অ্যান্ড রোল’ এলভিস প্রিসলির একমাত্র মেয়ে লিসা মেরি প্রিসলি। সংগীতশিল্পী ও গীতিকার লিসার প্রথম স্বামী ড্যানি কেফের ঘরে তাঁর দুই সন্তান হয়। বড় মেয়ে রিলে প্রিসলি ও তাঁর তিন বছরের ছোট বেঞ্জামিন কেফ। ১৯৯৪ সালে ড্যানির সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সেই বছরই লিসা ‘পপসম্রাট’ মাইকেল জ্যাকসনকে বিয়ে করেন। সেই বিয়ে টিকেছিল মাত্র দেড় বছর। অভিনেতা নিকোলাস কেজের সঙ্গে দুই বছরের সংসারেও কোনো সন্তান নেই লিসার। চতুর্থ স্বামী মাইকেল লকউডের ঘরে যমজ দুই মেয়ে জন্ম নেয়।

বেঞ্জামিনের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি। বেঞ্জামিনের বড় বোন, ‘ম্যাড ম্যাক্স: ফিউরি রোড’খ্যাত অভিনয়শিল্পী রিলে প্রিসলিই প্রথম প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানান। ভাইয়ের মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর ইনস্টাগ্রামে ভাইয়ের সঙ্গে নিজের বেশ কয়েকটি ছবি শেয়ার করেছেন তিনি। আর চিরতরে চলে যাওয়া ভাইয়ের উদ্দেশে লিখেছেন আবেগপ্রবণ এক খোলা চিঠি:

‘সকালগুলো সবচেয়ে কঠিন। কারণ, ঘুম থেকে ওঠার পর মনেই থাকে না যে তুমি আর নেই। আমি কাঁদতেও পারি না। কাঁদতে আমার ভয় হয়। মনে হয়, একবার যদি আমি কান্না শুরু করি, আমি আর নিজেকে থামাতে পারব না। কী যে তীব্র কষ্ট, এই কষ্টের সঙ্গে আমার আগে কখনোই দেখা হয়নি। তুমি আমার কে ছিলে, এ কথা বলতে গিয়ে ভাষা যেন থেমে গেল। তোমাকে বর্ণনার জন্য আমি কোন শব্দমালা থেকে কী কুড়িয়ে নিই? তুমি ছিলে এক দেবদূতের মতো। এটাই সম্ভবত তোমাকে বোঝানোর জন্য সবচেয়ে কাছাকাছি কোনো শব্দ। তুমি বিমল, বিশুদ্ধ আলোর মতো। ছোট্ট ভাই আমার, আমার হৃদয়ের টুকরা। বুদ্ধিমান, খানিক বন্য আর মজার একটা মানুষ। তুমি ছিলে কখনো আমার যমজ আত্মা, আর কখনো আমার অভিভাবক। এই প্রখর পৃথিবীর জন্য তুমি একটি বেশিই কোমল আর সংবেদনশীল।’

রিলে চিঠিটি শেষ করেছেন এভাবে, ‘আমি শক্তি চাই; আমার হৃদয়ে গভীর ক্ষত করে দিয়ে তুমি চলে গেলে, সেই যন্ত্রণা সইবার শক্তি। কিছু খাওয়ার শক্তিটুকুও নেই আমার। আশা করি, ওপারে তোমাকে ভালোবাসায় জড়িয়ে রাখা হয়েছে। আমার ছোট্ট বেন, আশা করি, আবার আমাদের দেখা হবে। অন্য কোনো সময়ে, অন্য কোথাও।’

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English