শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন

বেতন-বোনাস ছাড়াই ২৫ হাজার পৌর কর্মীর নিরানন্দ ঈদ

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০
  • ৫৫ জন নিউজটি পড়েছেন

সারাদেশে পৌরসভায় কর্মরত আছেন প্রায় ৩৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা এই সেবাকর্মীদের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর কোরবানির বোনাস তো দূরের কথা, হয়নি বেতনও। তাই বেতন-বোনাস ছাড়াই পরিবার-পরিজন নিয়ে এদের করতে হবে নিরানন্দ ঈদ উত্সব। নিয়মিত বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন এসব কর্মী। দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ পৌরসভায় দুই থেকে ৬৫ মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া পড়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা মেটাতে না পেরে অনেকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন।

জানা গেছে, পর্যাপ্ত আয় না থাকায় অনেক পৌরসভা তাদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিশেষ করে, মহামারি করোনাকালে পৌরসভাগুলোতে আর্থিক সংকট আরো বেশি দেখা দিয়েছে। ফলে পৌর কর্মীদের বেতন দিতে পারছে না পৌরসভা।

মিউনিসিপ্যাল অ্যাসোসিয়েশ অব বাংলাদেশের (ম্যাব) সাধারণ সম্পাদক ও শরীয়তপুরের মেয়র মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘৭০ শতাংশ পৌরসভার আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা সরকারের কাছে আপত্কালীন ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছি। এই টাকাটা আমরা বেতন ভাতায় ব্যয় করার কথা বলেছি। ইতিমধ্যে আমরা ৪৫ কোটি টাকা পেয়েছি। আমার পৌরসভায় ভাগে পড়া সেই টাকায় এক মাসেরও বেতন হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘এই করোনা ও বন্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের আবেদন, তিনি বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় দেখবেন। তার উদার মানবিকতার জন্যই ইতিপূর্বে ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। তিনি বিষয়টি বিবেচনায় নিলে বাকি সমস্যাও সমাধান হবে ইনশাআল্লাহ।’

বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ম ই তুষার বলেন, ‘মহামারির এই সময়ে পৌরসভাগুলোর কর্মীদের দুঃখের কথা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই অনুধাবন করতে পারবেন। তিনি হস্তক্ষেপ করলেই পৌরকর্মীদের কষ্ট লাঘব হবে।’

গতকাল বিএপিএসের এক প্রিস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ঈদে সরকার বেতন-ভাতা খাতে ৪৫ কোটি টাকা (এক মাসের বেতন-ভাতা) বরাদ্দ দিয়েছিল। কিন্তু এবার কোরবানির ঈদে কোনো বরাদ্দ সরকার এখনো দেয়নি। এছাড়া অবসরে যাওয়া পৌর কর্মীদের অবসর ভাতা বকেয়া শতভাগ। ইতিমধ্যে বেতন না পেয়ে কষ্টে কিশোরগঞ্জ কটিয়াদী পৌরসভার সচিব মো. আলমগীর স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়েছেন।

পৌর কর্মীদের নেতারা দাবি করেছেন, ‘অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করে বেতন-ভাতা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। করোনায় কাজ করতে গিয়ে যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের আর্থিক প্রণোদনা ও ঝুঁকি ভাতা প্রদানেরও ব্যবস্থা করতে হবে। অবসর ভাতা প্রাপ্তির সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন বিপিএস ঢাকা বিভাগের সভাপতি মো. আনোয়ার সাদাত্ ও সাধারণ সম্পাদক ম ই তুষার।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English