শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:০২ অপরাহ্ন

বেড়েছে সঞ্চয়, চাঙা এজেন্ট ব্যাংকিং

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৪২ জন নিউজটি পড়েছেন

চাঁদপুরের কচুয়ার ইমদাদুল হক মিলন ঢাকায় চাকরি করতেন। করোনাভাইরাসের কারণে চাকরি হারিয়ে ফিরে গেছেন নিজের এলাকায়। সোনালী ব্যাংক থেকে জমানো টাকা তুলে বাসার পাশের ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটে জমা করেছেন।
ইমদাদুল হক মিলনের মতো আরও ৮ লাখ ৬০ হাজার মানুষ নতুন করে গত এপ্রিল-জুনে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার গ্রাহক হয়েছেন।

তাঁদের মধ্যে কেউ বাসার পাশে সেবা পাওয়ায় জন্য, আবার কেউ নতুন করে সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে এ সেবায় যুক্ত হয়েছেন। আবার প্রবাসী আয়ের টাকাও ঘরের পাশে এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবে জমা করেছেন অনেকে। এজেন্টদের মাধ্যমে এই সময়ে প্রবাসী আয় বিতরণ হয়েছে ৭ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় আমানত বেড়েছে ১ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে গ্রাহক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘বাড়ি থেকে ব্যাংকের শাখা অনেক দূরে। এ জন্য টাকা তুলে এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবে জমা করেছি।’

‘বাড়ি থেকে ব্যাংকের শাখা অনেক দূরে। এ জন্য টাকা তুলে এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবে জমা করেছি।’
ইমদাদুল হক মিলন, গ্রাহক
করোনার এই সময়ে অনেক ব্যাংক শাখা বন্ধ থাকলেও নিয়মিত খোলা ছিল এজেন্ট আউটলেট। ফলে নতুন এজেন্ট যেমন বেড়েছে, ঠিক একইভাবে বেড়েছে গ্রাহক ও আমানতের পরিমাণ।

একাধিক ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, করোনার মধ্যে এক দিনের জন্যও এ সেবা বন্ধ ছিল না। অথচ অনেক ব্যাংক শাখা মার্চ–এপ্রিলে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এ কারণে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ওপর মানুষের আস্থা বেড়েছে।

জানতে চাইলে মিডল্যান্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহসান-উজ জামান বলেন, ‘আমরা মাত্র ৪৭টি আউটলেটের মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছি। করোনার মধ্যে সেখানে ১২ কোটি টাকা আমানত বেড়েছে।’

‘আমরা মাত্র ৪৭টি আউটলেটের মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছি। করোনার মধ্যে সেখানে ১২ কোটি টাকা আমানত বেড়েছে।’
আহসান-উজ জামান, মিডল্যান্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের জুনভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল–জুন প্রান্তিকে নতুন করে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় যুক্ত হয়েছে একটি ব্যাংক। তাতে সার্বিকভাবে দেশের এজেন্টের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮ হাজার ৭৬৪। আর আউটলেট ৫৮০টি বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৪৪৯টি। এই সময়ে গ্রাহক ৮ লাখ ৬০ হাজার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ লাখ ৫৮ হাজার ১৯০ জনে। আমানত বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার ২২০ কোটি টাকা। তবে ঋণ সেভাবে বাড়েনি। এপ্রিল–জুন সময়ে ৪৭ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে ৭২০ কোটি টাকা। তবে প্রবাসী আয় আসা আগের প্রান্তিকের চেয়ে প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। মার্চ প্রান্তিকে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৯ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা, জুন প্রান্তিকে যা বেড়ে হয়েছে ২৬ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, স্বাচ্ছন্দ্যে সেবা পাওয়ায় মানুষ এখন এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় বেশি ঝুঁকছেন। করোনায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সুফল মানুষ পেয়েছেন।

বাড়ির পাশে সেবা পাওয়ায় এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার ভালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। ব্যাংকগুলো গ্রাম থেকে আমানত তুললেও ঋণ দিতে আগ্রহী নয়।
করোনায় প্রায় ২ কোটি টাকা আমানত বেড়েছে মুন্সিগঞ্জের ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট আলমগীর হোসেনের। তিনি বলেন, ‘করোনার এ সময়ে অনেকে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে এনে আমাদের কাছে রাখছেন। কারণ, বাসার পাশেই এ সেবা মিলছে।’

জানা গেছে, জুন শেষে ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমে আমানত ২৩৬ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা। আর ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ১৫৩ কোটি টাকা। তবে সবচেয়ে বেশি আমানত বেড়েছে ইসলামী ব্যাংকের। ব্যাংকটির এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় আমানত ৪৫৪ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের এমডি আবুল কাশেম মো. শিরিন বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার ওপর মানুষের আস্থা দিন দিন বাড়ছে। করোনার কারণে অনেকে শাখা এড়িয়ে চলছেন। এ কারণে নতুন গ্রাহক ও আমানত বেড়েছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে।
আবুল কাশেম মো. শিরিন আরও বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বাড়ির পাশের এজেন্ট থেকে টাকা তোলার সুবিধা থাকায় এর আওতায় প্রবাসী আয় আসা অনেক বেড়েছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English