বিদায়ী বছরে ৭৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ মন্দাটা দেখেছে বিশ্ব অর্থনীতি। গত বছরের শুরুতে যেসব পূর্বাভাস এসেছিল, বলা যায় তার কোনোটায় ফলেনি করোনা নামক ভাইরাসের কারণে। অর্থনীতির অভূতপূর্ব ক্ষতি দেখেছে বিশ্ব। এখন এল নতুন বছর। যদিও ২০২১ সাল জুড়ে কোভিড-১৯ ভাইরাস থাকবে, তবে ভ্যাকসিন এলে নেতিবাচক প্রভাব হয়তো কমে যাবে। আশা করা যায়, ভ্যাকসিনের কারণে করোনা–পরবর্তী নতুন এক অর্থনীতিতে প্রবেশ করব আমরা। অর্থাৎ, কী হবে তা নিয়ে আশঙ্কা, সেই সঙ্গে আশার এক সংমিশ্রণ দেখা যাবে নতুন বছরের অর্থনীতিতে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএইচএস মার্কিটের এক বিশ্লেষণ আগামী বছরের অর্থনীতির জন্য ১০টি পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আইএইচএস মার্কিট মনে করছে, তাদের পূর্বাভাস হয়তো কাজে লাগানো যাবে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে। বিনিয়োগকারীদের জন্য হয়তো বার্তা দেবে নতুন কিছুর।
১. যদিও কোভিড-১৯ ভাইরাস আমাদের সঙ্গে থাকবে, তবে কার্যকর চিকিৎসা এবং ভ্যাকসিন ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে বড় একটা জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিস্তৃত হবে, যা মহামারি-পরবর্তী অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে সহায়তা করবে। তবে ভাইরাসটি নিজে থেকে দূরে হবে, এমন সম্ভাবনা খুব কম। এমনকি পর্যায়ক্রমিক ও ছোট প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি রয়েছে। তবে অ্যান্টিবডি এবং অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসার বিস্তৃত প্রাপ্যতা, পাশাপাশি উন্নত ট্র্যাক-ও-ট্রেস সিস্টেমের মাধ্যমে এ বছর লকডাউনের আর প্রয়োজন হবে না।
২. ২০২০ সালে ৪ দশমিক ২ শতাংশ হ্রাসের পর বিশ্বব্যাপী জিডিপি ২০২১ সালে প্রায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথমার্ধে করোনা ঝুঁকি লকডাউনসহ নানা ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও দ্বিতীয়ার্ধে দ্রুতগতিতে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।
৩. ২০২১ সালে বিনিয়োগকারী এবং নীতিনির্ধারকদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু কোভিড-১৯ থেকে পরিবেশে স্থানান্তরিত হবে।
৪. দেশে দেশে মুদ্রানীতি উপযুক্ত হবে। অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকই যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নমনীয় গড় মূল্যস্ফীতির যে লক্ষ্য, সেই নীতির দিকে ঝুঁকবে।
৫. ২০২১ সালে বড় বড় অর্থনীতি হয়তো আর্থিক খাতের বড় সংকট এড়াতে পারবে, তবে ব্যাংকিংয়ের ঝুঁকি বাড়বে।
৬. তৈরি পণ্যের দাম বাড়বে। ২০২০ সালের দ্বিতীয়ার্ধে লকডাউনের পর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পণ্যদ্রব্যের দাম তীব্র আকারে বেড়েছে। এই ব্যয় বৃদ্ধি–পরবর্তী ৬ থেকে ৯ মাসের জন্য সরবরাহ চেইনগুলোতে প্রবাহিত হবে। মার্জিনকে চাপ দেবে এবং ২০২১ সালে তৈরি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে।
৭. ২০২১ সালের শুরুতে আস্তে আস্তে মার্কিন অর্থনীতি চালিত হলেও মাঝামাঝি এসে গতি ত্বরান্বিত হবে।
৮. ২০২১ সালে বাজার কার্যক্রম বাড়লেও ইউরোপের প্রবৃদ্ধি কমবে।
৯. চীনের অর্থনীতি সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির হার দেখলেও তা কিছুটা কমে আসবে।
১০. নতুন বছরের মার্কিন ডলার কিছুটা দুর্বল হবে।