যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আগে এবং পরবর্তীতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে পেন্টাগনের সমরবিদরা ঠিকই বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, আফগানিস্তানে যে কাজ ৩ লাখ নিয়মিত সৈন্য রেখে, স্থল ও বায়ুতে সর্বাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র প্রয়োগ ও ব্যবহার করে, ২০ বছরে লাখ লাখ কোটি ডলার খরচ করেও যুক্তরাষ্ট্র করতে পারেনি, অর্থাৎ, তালেবানদের পরাস্ত করতে পারেনি, তা আরো ২০ বছরেও, এমনকি সারা জীবনেও করতে পারবে না তারা। ফাঁকতালে যুক্তরাষ্ট্রের কোটি কোটি ডলার খরচ হবে প্রতি মাসে। আরো কিছু সৈন্য হারানোর পাশাপাশি তাদের মনোবলেও চিড় ধরবে। তাই আফগানিস্তান থেকে কেটে পড়াই ভালো।
অনেকেই নিশ্চয়ই জানেন, যুক্তরাষ্ট্র আফগান সৈন্যদের সকল প্রকারের অস্ত্রসজ্জিত করা, তাদের ট্রেনিং দেয়া ছাড়াও তাদের বেতন, ভাতা, রেশন, ইত্যাদিও দিয়ে এসেছে নিয়মিত। বিনিময়ে তাদের যে পারফরম্যান্স ছিল, তা সকলেই দেখেছে।
সত্যি কথা বলতে কি, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সাহসিকতার সাথে অতি প্রয়োজনীয় এবং সঠিক একটি কাজ করেও প্রশংসার পরিবর্তে নিন্দা ও সমালোচনার সম্মুখীন হবেন এখন। সবচেয়ে বিব্রতকর সময় এখন অতিবাহিত করবেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এন্টনি ব্লিংকেন। কিন্তু ইতিহাস একদিন তাঁদের এই অবদানকে স্বীকৃতি দেবে এই বলে যে, বিড়ালের গলায় ঘন্টাটা তাঁরাই বেঁধেছিলেন।
এখন তালেবানরা আফগানিস্তানে ক্ষমতায় আসছে, তা নিশ্চিত। তালেবানদের মুখপাত্র সোহেল শাহীন বলেছেন, তালেবানদের হাতে পরাজয় নিশ্চিত জেনে শেষ চেষ্টা হিসেবে তাদের ব্যাপারে গুজব ছড়ানো হয়েছে যে, তালেবানরা নারী শিক্ষার বিরোধী, ১৪ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত নারীদের র বিয়ে করতে তালেবানরা হুকুম দিয়েছে, ইত্যাদি।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, তাঁদের একটাই দাবী, দেশ ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় চলবে, যেমন, পৃথিবীর আরো অনেক দেশ চলছে। তাঁরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন করে দেশ পরিচালনা করবে। নারী শিক্ষা, কারো ব্যবসা-বাণিজ্যে তাঁরা বাধা দেবেন না। একমাত্র জেনারেল রশিদ দোস্তাম ছাড়া (যিনি এরই মধ্যে উজবেকিস্তানে পালিয়েছেন বলে এক খবরে জানা গেছে) প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণিসহ সকলকে ক্ষমা করে দেবেন। কেউ যদি আফগানিস্তানে ত্যাগ করে অন্য কোনো দেশে চলে যেতে চায়, তাঁরা কাউকেই বাধা দেবেন না।
একটু আগে সিএনএনের এক সঞ্চালককে দেখলাম যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এন্টনি ব্লিংকেনকে আফগানিস্তান নিয়ে চোখেমুখে কাঠিন্য এনে চোখা চোখা প্রশ্ন করে তাঁকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলছেন। ভবিষ্যতে তালেবান সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অবস্থাতেই স্বীকৃতি দেবে না, এটা নিশ্চিত করার জন্য সঞ্চালক তাঁকে বললে, তিনি বললেন, আফগানিস্তানে যে সরকার মানবাধিকারকে সম্মান করবে, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবে, এমন সরকারের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে কাজ করার আগ্রহ দেখাতে পারে।
আমি কিন্তু দিব্যচোখে দেখতে পাচ্ছি, ভবিষ্যতে জোব্বা-পাগড়ি পরিহিত তালেবান শাসকদের সাথে কেতাদুরস্ত পশ্চিমা পোশাক পরা যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদে আসীন ব্যক্তিরা হোয়াইট হাউসে বসে মিটিং করছেন। কারণ, আর যাই হোক না কেন, আফগানিস্তানকে বৈরিশক্তির সম্পূর্ণ দখলে চলে যাওয়ার ঝুঁকি নেবে না যুক্তরাষ্ট্র।
[লেখাটি ফেসবুক থেকে নেয়া]