এ যেন ভিন্ন এক পরিবেশ। বিচারক ও আইনজীবী কারো গায়ে ছিলো না বাধ্যতামূলক পোশাক কালো কোট ও কালো গাউন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী এই দুটি পোশাক ছাড়াই শুধু সাদা শার্ট-প্যান্ট/শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজ পরে প্রথমবারের মত মামলার শুনানিতে অংশ নিলেন পুরুষ ও নারী আইনজীবীরা। শুরু হলো বিচার কার্যক্রম।
করোনাকালে এমন বাস্তবতার মুখোমুখি দাড়িয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও আইনজীবীরা কঠোরভাবে অনুসরণ করছেন স্বাস্থ্যবিধি। মাস্ক পড়ে আদালত কক্ষে প্রবেশ করতে হয়েছে সকলকে। এভাবে দীর্ঘ পাঁচ মাস পর বুধবার বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণের উপস্থিতিতে মুখর দেশের সর্বোচ্চ আদালত অঙ্গন।
গত মার্চ মাসে দেশে করোনা রোগী সনাক্তের পর শারীরিক উপস্থিতিতে বিচার কাজ বন্ধ রাখা হয়। পরে মে মাস থেকে চালু করা হয় ভার্চুয়াল কোর্ট। এমতাবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কোর্ট খুলে দেওয়ার দাবির প্রেক্ষিতে ফুল কোর্ট সভা ডাকেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। ওই ফুল কোর্ট সভায় শারীরিক উপস্থিতিতে উচ্চ আদালতে বিচারকাজ চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি ভার্চুয়াল পদ্ধতিতেও বিচার কাজ চলবে বলে জানানো হয়।
সেই প্রেক্ষাপটে আজ থেকে হাইকোর্টের ১৮টি বেঞ্চে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণের শারীরিক উপস্থিতিতে চলছে বিচার কাজ। আর ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচার কাজ চলছে ৩৫ বেঞ্চে।
এদিকে, শারীরিক উপস্থিতিতে বিচার কাজ শুরুর প্রথম দিনেই বিপুল সংখ্যক আগাম জামিনের দরখাস্ত দাখিল হয়েছে। গত পাঁচ মাস ধরে উচ্চ আদালতে বন্ধ ছিলে এই আগাম জামিন শুনানি। এতে হয়রানির শিকার হয়েছেন বিচারপ্রার্থী জনগণ। আগাম জামিনের দরখাস্ত দাখিলের পাশাপাশি রিট মামলা দাখিল হয়েছে অনেক।
আজ আদালত অঙ্গন ও আইনজীবী সমিতি ভবন ঘুরে দেখা যায়, আইনজীবী সমিতি ভবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে সবার তাপমাত্রা পরিমাপ করা হচ্ছে। যাদের মুখে মাস্ক নেই তাদেরকে মাস্ক পরতে বলা হচ্ছে। আর আদালত কক্ষে ও বিভিন্ন শাখায় সারিবদ্ধভাবে সবাইকে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
আইনজীবীরা জানান, করোনাকালে এক প্রকার ঘরবন্দি হয়েই ছিলাম। এখন সুপ্রিম কোর্ট খুলে দেওয়ায় আমাদের কর্মব্যস্ততা আবার শুরু হল।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে মামলা পরিচালনা করে আগামী দিনগুলো যেন নিরাপদে অতিবাহিত করতে পারি সেটাই প্রার্থনা।