করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পর বিরাট আশার সঞ্চার হয়েছে গোটা বিশ্বেই। মানুষ আশা করছে, দ্রুতই তারা আগের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। কিন্তু এখন মডার্নার প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা বলছেন, তাঁদের তৈরি ভ্যাকসিন নিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষিত থাকবেন। তবে এই করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতা এখনো প্রমাণিত নয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, মডার্নার তৈরি করোনা ভ্যাকসিন একজন ব্যক্তিকে কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষা দেবে। কিন্তু ভ্যাকসিনটি নেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে ভাইরাসটি অন্যদের মধ্যে ছড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন মডার্নার প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ড. টাল জ্যাকস।
আমার মনে হয় আমাদের সাবধান হওয়া দরকার। ভ্যাকসিনের কার্যকারিতাকে বাড়িয়ে দেখার কোনো চেষ্টা করা উচিত নয়
টাল জ্যাকস, মডার্নার প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা
অর্থাৎ, এই ভ্যাকসিন নিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সুরক্ষিত থাকলেও তাঁর মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। ভ্যাকসিন গ্রহীতা ভাইরাসটি বহন করতে পারেন। এই ভ্যাকসিন ভাইরাসটির বাহক হওয়া থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিরত রাখতে কতটা কার্যকর, তা এখনো নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই।
গতকাল সোমবার এক টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টাল জ্যাকস বলেন, ‘আমার মনে হয় আমাদের সাবধান হওয়া দরকার। ভ্যাকসিনের কার্যকারিতাকে বাড়িয়ে দেখার কোনো চেষ্টা করা উচিত নয়। এই ভ্যাকসিন যখন আমরা নিয়ে আসছি, তখন ভাইরাসটির বিস্তার রোধে এর কার্যকারিতা নিয়ে শক্ত কোনো প্রমাণ আমাদের হাতে নেই। এটি বিস্তার রোধ করে কিনা, এমন প্রশ্ন করা হলে আমি অবশ্যই বলব—হ্যাঁ। কিন্তু এর পক্ষে শক্ত প্রমাণ নেই। তাই ভ্যাকসিন আসার অর্থ এই নয় যে, আমরা আমাদের এত দিনের সতর্ক আচরণ রাতারাতি বদলে ফেলব।’
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, টাল জ্যাকসের এই বক্তব্যের কারণে ভ্যাকসিন নিয়ে যে উচ্চাশা তৈরি হয়েছিল, তাতে একটু ভাটা পড়বে নিশ্চিতভাবে। ধারণা করা হয়েছিল, ভ্যাকসিন যেহেতু এসেছে, সেহেতু এই বুঝি মহামারি দিন বিদায় নিল। কিন্তু বাস্তবতা এতটা সহজ নয়। ভ্যাকসিন দেওয়া শুরুর পরও মানুষকে করোনাকালের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতিগুলো মেনে চলতে হবে। ফলে সহজেই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হবে না।
গত সপ্তাহে ভ্যাকসিন তৈরির ঘোষণা দিয়ে মডার্না জানিয়েছিল, তাদের তৈরি ভ্যাকসিন কোভিড-১৯ প্রতিরোধে ৯৫ শতাংশ কার্যকর। কিন্তু এই কার্যকারিতা শুধু ভ্যাকসিন গ্রহীতার শরীরের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
মাডার্নার আগেই অবশ্য ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ঘোষণা আসে ফাইজারের কাছ থেকে। তারাও তাদের তৈরি ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ৯৫ শতাংশ বলে জানায়। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ভ্যাকসিনের অনুমোদন চেয়েছে মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) কাছে। ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই এই অনুমোদন হয়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।