বাঙালি জাতির ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে মসলিন পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন ছিল। আর এ মসলিন ফিরে পাওয়া বাঙালি জাতির একটি বড় অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বীরপ্রতীক গোলাম দস্তগীর গাজী।
সোমবার বিকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ‘মসলিন প্রযুক্তি পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ শীর্ষক গবেষণার অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মসলিন কাপড় নিয়ে গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, আমার প্রথমে একটু সংশয় ছিল। কারণ মসলিন কাপড়ের সুতা এতটাই সূক্ষ্ম যে, প্রথমে তুলাই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে গবেষকরা যুক্তরাজ্যে জাদুঘর থেকে ঘুরে এসে আমাকে বলেছিলেন, আমরা নিশ্চয়ই করতে পারব। তারা সত্যিই সফল হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, মসলিন পুনরুদ্ধারে যা যা প্রয়োজন তা আমরা দেব। এরপর আমরা চেষ্টা করব বেশি দামি হলেও যেন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে সাধারণ মানুষের জন্য বাজারে দেওয়া যায়। পরে আমরা আরও কম দামে দেওয়ার চেষ্টা করব। আশা করি, মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে মসলিন তুলে দিয়ে মসলিন পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন পূরণ করতে পারব।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান বলেন, দেশকে স্বাধীন করে বঙ্গবন্ধুর প্রথম স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল। কিন্তু তিনি সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন পূরণ করে যেতে পারেননি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ২০১৪ সালে মসলিন পুনরুদ্ধারের সঠিক দিকনির্দেশনাটি দিয়েছিলেন। আজ আমাদের গবেষকরা সেই অসাধ্য সাধন করতে যাচ্ছেন।
উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষণা প্রকল্পের সদস্য মনজুর হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন- রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী সদর আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ও চৌধুরী মো. জাকারিয়া, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।