মক্কার লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করেনি। মহানবী (সা.) ধর্ম প্রচারের জন্য তায়েফ যাওয়ার ইচ্ছা করলেন। মহানবী (সা.) ভেবেছিলেন, সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা তায়েফের মানুষের মন হয়তো আরো নরম পাওয়া যাবে। নবীজি তায়েফ চললেন। কিন্তু উল্টোই করল তারা। লেলিয়ে দিল ছেলে-ছোকরা ও দাসদের। মহানবী (সা.) রাস্তায় বের হলে তারা পেছনে ছুটত, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করত, পাথর নিক্ষেপ করত। পথের দুই ধার থেকে তাঁর পা লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করা হতে লাগল। রক্তে রঞ্জিত হয়ে গেল তাঁর পা। চলতে না পেরে মাঝেমধ্যে তিনি বসে পড়তেন। ওরা নবীজিকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে আবার সেই আগের মতোই পাথর নিক্ষেপ করত। এভাবে ক্রমেই তাঁর জীবন নিয়ে সংশয় দেখা দিল। মহানবী (সা.) মক্কায় ফিরে গেলেন। যখন তিনি তায়েফ ছাড়ছিলেন তখন আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতা এসে তায়েফবাসীদের পাহাড়চাপা দিয়ে মেরে ফেলার অনুমতি চাইলেন। এই দিনের ঘটনা সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি আবদে ইয়ালিস ইবনে আবদে কুলালের সন্তানদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলাম; কিন্তু তারা আমার দাওয়াত গ্রহণ করেনি। আমি দুঃখ-কষ্ট ও মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থায় কারোন ছাআলেব নামক স্থানে পৌঁছে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। সেখানে মাথা তুলে দেখি মাথার ওপরে এক টুকরা মেঘ, ভালোভাবে তাকিয়ে দেখি সেখানে জিবরাইল (আ.)। তিনি আমাকে বলেন, আপনার জাতি আপনাকে যা যা বলেছে, আল্লাহ সবই শুনেছেন, আপনার কাছে পাহাড়ের ফেরেশতাদের পাঠানো হয়েছে। এরপর পাহাড়ের ফেরেশতারা আমাকে আওয়াজ দিলেন, সালাম জানালেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এ কথা সত্যি, আপনি যদি চান, তাহলে আমরা ওদের দুই পাহাড়ের মধ্যে পিষে দেব। আমি বললাম, না, আমি আশা করি, মহান আল্লাহ ওদের বংশধরদের মধ্যে এমন মানুষ সৃষ্টি করবেন, যারা শুধু আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না।’ (সহিহ বুখারি, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৫৮)