শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:০৫ অপরাহ্ন

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পরামর্শ

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২০
  • ৬২ জন নিউজটি পড়েছেন

করোনাকালে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। দুশ্চিন্তা কাটাতে তাই সব সময় পজিটিভ থিংকিং বা ভালো কিছু চিন্তা করা উচিত। এ ধরনের মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দিতে এসকেএফ নিবেদিত ‘করোনাকালে অসুখ-বিসুখ’ অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে অতিথি হিসেবে যোগ দেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অভ্র দাশ ভৌমিক।

অনুষ্ঠানটি সরাসরি ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল এবং এসকেএফের ফেসবুক পেজে সম্প্রচারিত হয়। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ডা. শ্রাবণ্য তৌহিদা।

ডা. অভ্র দাশ ভৌমিক জানান, চিন্তা মানেই দুশ্চিন্তা নয়, আবার মন খারাপ হলেই তা বিষণ্নতা নয়। দৈনন্দিন জীবনের কাজগুলো গুছিয়ে করতে হলে এগুলো নিয়ে ন্যূনতম কিছু চিন্তা আসবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত চিন্তা করা, যেকোনো বিষয়ের খারাপ দিকটাই চিন্তা করা, অকারণেই সব সময় কোনো কিছু থেকে ভয় বা ক্ষতির আশঙ্কা বোধ করার মতো লক্ষণ হতে পারে দুশ্চিন্তা রোগের লক্ষণ। দুশ্চিন্তা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির গলা শুকিয়ে আসা, বুক ধড়ফড় করা, দমবন্ধ অনুভূতি হওয়া, বারবার বাথরুমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। দুশ্চিন্তার রোগী অস্থিরতায় ভোগেন, স্বস্তি, আয়েশ বা আরাম পান না। দুশ্চিন্তার রোগীর জীবনে ধরাবাঁধা ছকের বাইরে কোনো কিছু হলে বিষয়টিকে সহজভাবে নিতে পারেন না।

চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায় স্বস্তিদায়ক শ্বাসের ব্যায়াম বেশ কার্যকর। নাক দিয়ে গভীরভাবে শ্বাস নেওয়া এবং মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ার মাধ্যমে এই ব্যায়াম করা যায়। কোনো কারণ ছাড়াই ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে এ ধরনের লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কাউন্সেলিং, রিল্যাক্সেশন থেরাপি এবং ওষুধের মাধ্যমে এর চিকিৎসা সম্ভব। দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ব্যক্তি মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারেন না বলে তাঁর স্বাভাবিক কর্মদক্ষতা কমে আসতে পারে।

মনোযোগ ও উৎসাহের অভাব হতে পারে বিষণ্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তিরও। হতাশা বা বিষণ্নতায় ভুগলে কারণ ছাড়াই মন খারাপ থাকে। যে কাজে আগে আনন্দ পাওয়া যেত, সে কাজে আর আগ্রহ জাগে না। নতুন কাজেও আগ্রহ জাগে না। অনেক ক্ষেত্রে খাবার রুচি খুব কমে যায়, ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই রোগীর ওজন কমে যায়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগী অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণও করতে পারেন।

বিষণ্নতার রোগী ঘুমের সমস্যাতেও ভুগতে পারেন। ঘুম আসতে দেরি হতে পারে, আবার খুব সকালে ঘুম ভেঙে যেতে পারে। ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর রোগীর মনে হয়, আরও একটি বিষণ্ন দিন শুরু হলো। রোদের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিকেলের দিকে তিনি কিছুটা ভালো অনুভব করতে পারেন। বিষণ্নতার রোগী তাঁর আশপাশে ঘটে যাওয়া সব খারাপ ঘটনার জন্য নিজেকে অপরাধী মনে করতে পারেন। বিষণ্নতার লক্ষণগুলো যদি দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে দিনের অধিকাংশ সময়ে দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। বিষণ্নতা মারাত্মক আকার ধারণ করলে রোগীকে মৃত্যুচিন্তাও পেয়ে বসতে পারে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English