শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন

মামলায় হেফাজত নেতাদের নাম না থাকায় প্রশ্ন

অনলাইন সংস্করণ
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ২০২১
  • ৫৩ জন নিউজটি পড়েছেন
মামলায় হেফাজত নেতাদের নাম না থাকায় প্রশ্ন

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামের হরতালসহ টানা তিন দিনের ব্যাপক তাণ্ডবের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানায় ২৫টির অধিক মামলা হয়েছে। তবে এসব মামলায় হেফাজতের নেতাদের আসামি না করার বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অন্য দলের নেতা-কর্মীদের ফাঁসানোর চেষ্টা হতে পারে অভিযোগ উঠছে।

তবে পুলিশ বলছে, কৌশলগত কারণে মামলার এজাহারে হোতাদের নাম রাখা হয়নি। হামলাকারীদের গ্রেফতাদের পর তাদের মুখ থেকেই বেরিয়ে আসতে পারে হেফাজতের নেতাদের নাম। এ ছাড়া হামলা-ভাঙচুর ও আগুনে লন্ডভন্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামের হাটহাজারি ও নারায়ণগঞ্জসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় কাজ করছে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। নির্দেশদাতা, সামনের সারির হামলাকারীদের শনাক্ত ও নেপথ্যের রহস্য উদঘাটনে গোয়েন্দারা তথ্য সংগ্রহ করছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

এদিকে নাশকতার বেশিরভাগ মামলায় হেফাজত নেতাদের আসামি না করার ব্যাখ্যা দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, মূলত বিতর্ক এড়াতে হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। কারণ তারা অনস্পটে ছিলেন না। তবে মামলার তদন্তের যে কারোর নাম আসতে পারে।

পুলিশ প্রধান বলেন, যারা হামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। যারা নির্দেশ দিয়েছেন তদন্তে তাদের নাম আসলে সেগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। মামলার এজাহারে কারো নাম না থাকলে তা যে তদন্তে আসবে না এমন কোনো কথা নেই। আমাদের দেশে একটা কাজ করলে নানা সমালোচনা শুরু হয়। আমরা কোনো কিছুই বিতর্কিত করতে চাই না।

গত রবিবার হেফাজতের হরতাল চলাকালে নাশকতার ঘটনায় বিভিন্ন থানায় অন্তত ২০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে নজিরবিহীন হামলা ও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৭টি ও নারায়ণগঞ্জে ৬ মামলা হয়েছে। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জে দুইটি, হবিগঞ্জে একটি, ঢাকায় তিনটি ও নরসিংদীতে একটি মামলা হওয়ার খবর মিলেছে। তা ছাড়া শুক্র ও শনিবারে চট্টগ্রামের হাটহাজারিতে নৈরাজ্য ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনায় অন্তত ৭ মামলা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে বেশিরভাগ এসব মামলায় অন্তত ১৭ হাজার অজ্ঞাত আসামি রয়েছে।

পুলিশ সন্দেহ করছে, মোদি বিরোধী তীব্র আন্দোলনের নামে নাশকতার সামনে হেফাজতের কর্মীরা থাকলেও পেছনে সন্ত্রাসীগোষ্ঠী জড়িত। হেফাজতে ইসলামের নামে হরতাল-কর্মসূচি হলেও প্যান্ট-শার্ট, টি-শার্ট পরা অনেক হামলাকারীকে এসব স্থানে অংশ নিতে দেখা গেছে। কয়েকটি স্থানে ঢাল হিসেবে মাদরাসার শিশু শিক্ষার্থীদের সামনে রাখা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, একটি ‘সন্ত্রাসী অপশক্তি’ সহিংস অবস্থা তৈরি করতে তাণ্ডব চালিয়েছে। এসব নাশকতায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছে। সাংবাদিক, পুলিশসহ পাঁচ শতাধিক আহত এবং শত শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এসব বড় হামলার নেপথ্যের রহস্য ও নির্দেশদাতাদের নাম খুঁজে বের করতে কাজ করছেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে গত ২৬ মার্চ দুই দিনের সফরে আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওইদিনই চট্টগ্রামের হাটহাজারিতে হেফাজতের সহিংসতায় চারজন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন নিহত হয়। ঢাকায়ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব সহিংসতার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

২৭ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভের সময় আরো পাঁচজন নিহত হয়। এর পরদিন গত ২৮ মার্চ রবিবার হরতাল কর্মসূচি পালনের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তাণ্ডব চলে। এতে তিনজন প্রাণ হারায়। জেলা পরিষদ কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয়, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গন, প্রেস ক্লাব, মন্দির, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা ও আগুন দেয়া হয়। এর আগে রেলস্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। নারায়ণগঞ্জে সাতজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়। এ ছাড়া ঢাকার মতিঝিল-পল্টন, সিলেট, হবিগঞ্জের আজমেরীগঞ্জে, কিশোরগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডবের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় পাঁচটি ও আশুগঞ্জ থানায় দুটি মামলা হলেও হেফাজতের সিনিয়র নেতাদের নাম নেই। প্রতিটি মামলাতেই অজ্ঞাতনামা অন্তত আট হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে ৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন ও সোনার বাংলা ট্রেনে হামলার ঘটনায়ও মঙ্গলবার নাগাদ মামলা হয়নি। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক সহিংসতা ঘটনার মামলায় কয়েকজন বিএনপি নেতার নাম থাকলেও জেলার হেফাজত নেতাদের নাম আসামির তালিকায় নেই।

এদিকে ঢাকায় শুক্রবার, শনি ও রবিবারের নাশকতার ঘটনায় তিনটি মামলায় কয়েক হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। গত ২৫ মার্চ মতিঝিল থানায় ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীদের আসামি করা হলেও সেখানে নাম নেই কারো। শুক্রবারের সংঘর্ষের ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলায় তিন-চার হাজার অচেনা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। হরতালের দিন সংঘর্ষে পল্টন থানায় পাঁচ-ছয় হাজার অচেনা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা হয়েছে। তবে হেফাজত নেতাদের নাম না থাকায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English