শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন

মা ও শিশুর সুরক্ষা চাই, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসব করাই

লাইফস্টাইল ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ২৭ জুন, ২০২১
  • ৫০ জন নিউজটি পড়েছেন
অটিজমঃ লক্ষণ ও কারণ

নিরাপদ সন্তান প্রসব নারীর অধিকার। গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য ও নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করার প্রধান ও প্রমাণিত উপায় হলো প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব সেবা প্রদান ও গ্রহণ। এর মাধ্যমে গর্ভবতী মায়ের প্রসবকালীন জটিলতা ও মৃত্যুর হার কমানো যায়। সম্প্রতি সরকার জাতীয় মাতৃস্বাস্থ্য কৌশলপত্র ২০১৯-২০৩০ প্রণয়ন করেছে। দেশে ২০১০ সালে মাতৃ মৃত্যুহার ছিল প্রতি লাখ জীবিত জন্মে ১৯৪ (BMMS 2010), ২০১৯ সালে যা কমে ১৬৫-এ নেমে এসেছে (MICS 2019)। তারপরও এ হার অনেক বেশি। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৭০ বা তার নিচে নামিয়ে আনতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে এই লক্ষ্যমাত্রা কৌশলপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবহার শতকরা ৫৪ ভাগ থেকে ৮৫ ভাগ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত দক্ষ ধাত্রীর মাধ্যমে প্রসবহার শতকরা ৫৯ ভাগ থেকে বাড়িয়ে ৯০ ভাগে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে (MHS 2019-2030) এবং এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো একসঙ্গে কাজ করছে।

এখনো বাংলাদেশে মাতৃ মৃত্যুহার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত হারের তুলনায় অনেক বেশি (১৬৫/লাখ জীবিত জন্ম); অথচ মাতৃমৃত্যুর উচ্চহার উপযুক্ত গর্ভকালীন সেবা, নিরাপদ প্রসব ও প্রসবোত্তর সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে কমিয়ে আনা সম্ভব। একজন সুস্থ মা-ই, একটি সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে পারেন। মায়ের সুস্থতার জন্য প্রয়োজন গর্ভকালীন, প্রসবকালীন ও প্রসব পরবর্তী যত্ন। পরিবার ও জনগণের সচেতনতা এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যকেন্দ্রই একজন গর্ভবতী মায়ের সেবা নিশ্চিত করতে পারে। এজন্য গর্ভবতী মাকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। মাতৃ মৃত্যুহার কমানো কেবল সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন বেসরকারি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জনসচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন। এক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার, বেসরকারি সংস্থা ও গণমাধ্যম সবারই ভূমিকা রয়েছে।

আশার কথা, মাতৃ মৃত্যুহার কমাতে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আয়োজনে সারা দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান-২০২১ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। এ প্রচারাভিযান প্যাকেজের আওতায় উপজেলা পর্যায়ে ৪০টি সচেতনতামূলক কর্মশালা, জেলা পর্যায়ে সদর হাসপাতালে ২০টি বিলবোর্ড স্থাপন, টিভিসি তৈরি ও পাঁচটি টিভি চ্যানেলে প্রচারসহ বিভিন্ন তথ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ উপকরণ (লিফলেট, বুকলেট, ফেস্টুন, ফোল্ডার, টি-শার্ট ইত্যাদি) তৈরি ও বিতরণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর পক্ষে পায়াক্ট বাংলাদেশ ও আদ্রিতা ভিজ্যুয়াল এই প্রচারাভিযান প্যাকেজ বাস্তবায়ন শেষে ২৬ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে সমাপনী কর্মশালার আয়োজন করেছিল। ওই কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন ডা. সাইফুল ইসলাম, লাইন ডাইরেক্টর; লাইফস্টাইল, হেলথ এডুকেশন অ্যান্ড প্রমোশন (এলএইচপি), স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডা. মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রোগ্রাম ম্যানেজার; এলএইচপি, স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কর্মশালায় বলা হয়-অপার সম্ভাবনার দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত এই দেশে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় দেশে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English