সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন

মা-বাবার প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞতা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪৯ জন নিউজটি পড়েছেন

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সৃষ্টি করেছেন। আমাদের দুনিয়ায় প্রেরণ করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য। কিন্তু দুনিয়াতে তিনি আমাদের একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় পাঠিয়েছেন। রুহের জগৎ থেকে দুনিয়ার জগতে আনতে মাধ্যমে বানিয়েছেন মা-বাবাকে। তাঁদের মাধ্যমেই মহান আল্লাহ আমাদের দুনিয়ার আলো-বাতাস দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন। এ কারণেই মহান আল্লাহ তাঁদের বিশেষ সম্মান দিয়েছেন। আল্লাহর ইবাদত করার পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আপনার রব আদেশ দিয়েছেন তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করতে ও মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তারা একজন বা উভয়ই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের ‘উফ’ বোলো না এবং তাদের ধমক দিয়ো না; তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলো।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৩)

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা মা-বাবার আদব, সম্মান এবং তাঁদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করাকে নিজের ইবাদতের সঙ্গে একত্রিত করে ফরজ করেছেন। মহান আল্লাহর ইবাদত করা যেমন প্রতিটি মানুষের জন্য ফরজ, তেমনি মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করাও ফরজ। মহান আল্লাহ সন্তানকে তার মা-বাবার কাছে এতটা ঋণী করেছেন যে পৃথিবীর সব কিছু দিয়ে হলেও কোনো সন্তানই তার মা-বাবার ঋণ শোধ করতে পারবে না। এ কারণে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁদের শুকরিয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি মানুষকে তার মা-বাবার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভে ধারণ করে, আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। কাজেই আমার প্রতি ও তোমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। (সুরা : লুকমান, আয়াত : ১৪)

পবিত্র হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, কোনো এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করল, আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় কাজ কোনটি? তিনি বলেন, সময় হলে নামাজ পড়া। সে আবার প্রশ্ন করল, এর পর কোন কাজটি সর্বাধিক প্রিয়? তিনি বলেন, মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার। (মুসলিম, আয়াত : ৮৫)

মা-বাবা যদি অমুসলিমও হয়, তবু তাদের সঙ্গে সদাচরণ করতে হবে। তাদের আদর-আপ্যায়ন করতে হবে। আসমা (রা.) রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, আমার জননী মুশরিকা। তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তাকে আদর-আপ্যায়ন করা জায়েজ হবে কি? তিনি বলেন, ‘তোমার জননীকে আদর-আপ্যায়ন করো।’ (মুসলিম, হাদিস : ১০০৩)

তবে তারা যদি এমন কাজ করতে আদেশ করে, যা করলে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করতে হয় বা কুফরি করতে হয়, তবে সেই কাজ করার অবকাশ নেই। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানুষকে নির্দেশ দিচ্ছি তার মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তবে ওরা যদি তোমার ওপর বল প্রয়োগ করে আমার সঙ্গে এমন কিছু শরিক করতে, যার সম্পর্কে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তুমি তাদের মেনো না। (সুরা : আল-আনকাবুত, আয়াত : ৮)

আল্লাহ আরেক জায়গায় বলেন, ‘তোমার মা-বাবা যদি তোমাকে পীড়াপীড়ি করে আমার সমকক্ষ দাঁড় করাতে যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তুমি তাদের কথা মেনো না, তবে পৃথিবীতে তাদের সঙ্গে বসবাস করবে সদ্ভাবে।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ১৫)

অর্থাৎ যার মা-বাবা অমুসলিম এবং তাকেও অমুসলিম হওয়ার আদেশ করে এ ব্যাপারে তাদের আদেশ পালন করা জায়েজ নয়, কিন্তু দুনিয়াতে তাদের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রেখে চলতে হবে। বলাবাহুল্য, আয়াতে ‘মারুফ’ বলে তাদের সঙ্গে আদর-আপ্যায়নমূলক ব্যবহার বোঝানো হয়েছে।

তাই আসুন, আমরা মা-বাবাকে সম্মান করি, যথাসম্ভব তাঁদের খিদমত করি, তাঁদের জন্য সর্বদা দোয়া করি। তাঁদের ধন্যবাদ জানাই।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English