মহালয়ার আগেই দেবীর অসুর-দমনের ছোট সংস্করণ দেখালেন অভিনেত্রী মিমি। অনেকেই তাকে বীরাঙ্গনাও বলছেন। শহরের রাস্তায় বীরাঙ্গনা রূপে মিমি চক্রবর্তীর আবির্ভাব ঘটলো। আর তাকে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন কলকাতার নারীরা।
ঘটনাটা মনে রাখার মতো। শুধু সিনেমাতেই নয়, বাস্তবেও যে চিত্রনায়িকারা সাহসিকতার পরিচয় দিতে পারেন তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত এখন মিমিই।
ঘটনা ঘটেছে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কলকাতার দক্ষিণভাগে বিলাসবহুল আবাসিক এলাকা বালিগঞ্জে। মিমি জিম থেকে বাসায় ফিরছিলেন। বালিগঞ্জ ফাঁড়ির কাছে পৌঁছলে তার পাশ কেটে যাচ্ছিল একটি ট্যাক্সি। যেতে যেতে ট্যাক্সির চালক চোখ দিয়ে মিমির প্রতি অশ্লীল ইঙ্গিত করেন।
প্রথম বিষয়টা এড়িয়ে তার গাড়ি পাশ কেটে নিয়ে যান। এসময় ট্যাক্সিচালক তাকে ওভারটেক করার সময় ফের মিমির দিকে অত্যন্ত অশ্লীল ইঙ্গিত করেন। এতে মিমি সিদ্ধান্ত নেন অভদ্র এই চালককে শিক্ষা দিতে হবে।
এরপর ধাওয়া করেন চালককে। এক পর্যায়ে বলা যায় দাবড়ে ধরে ফেলেন ট্যাক্সিচালককে। তারপর নিজের গাড়ি থেকে নেমে চালককে ধমকাতে থাকেন। এর মধ্যেই ভিড় জমে যায়। পরে মিমি গড়িয়াহাট থানায় অভিযোগ দেন।
মিমি চক্রবর্তী
পুলিশ রাতেই দেবা যাদব নামের ওই ট্যাক্সিচালকে গ্রেপ্তার করে। তাকে কোর্টেও তোলা হয়। মিমির দুঃসাহসিক এই কাজের অনেকেই প্রশংসা করছেন। বিশেষ করে নারীরা খুশি হয়েছেন তার ওপর।
তবে বৃষ্টিভেজা রাতে এরকম দুঃসাহসিকতার কাজ করার ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন মিমি। বলেছেন, সে সময় তার দেহরক্ষী ছিল না। তবুও তিনি ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নেমে ওই অভদ্র ট্যাক্সি চালককে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, সেটা তার কর্তব্য।
কেননা, অন্য কোনো নারী যখন ওই ট্যাক্সিতে উঠবেন তখন তিনিও বিপন্ন হতে পারেন। সেটা যাতে আর না হয় তা বন্ধ করার জন্যই তিনি এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠে ট্যাক্সিটিকে ধরার জন্য তাড়া করেন। অবশ্য বিষয়টাকে গুরুত্ব দেয়ায় পুলিশকেও ধন্যবাদ জানান।