আমেরিকার নাগারিক হওয়ায় ছয়মাস পর পরই সে দেশে উড়াল দিতে হয় ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা সওগারকে। গত ১০ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় চলে যান মিশা। সে সময় গুঞ্জন উঠে মিশা সওদাগর অভিনয়কে বিদায় জানিয়ে পুরোপুরিভাবে স্থায়ী হচ্ছেন সেখানে। মঙ্গলবার আমেরিকা থেকে আলাপে সে গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন হাজার খানেক ছবির এ অভিনেতা। বললেন, ‘ফেব্রুয়ারি শেষের দিকে বা মার্চের শুরুতে দেশে ফিরছি। ফিরেই বাকি থাকা ছবির কাজ শেষ করবো।’
এর আগে চলচ্চিত্র স্বার্থ রক্ষণে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৯টি সংগঠন থেকে ‘বয়কট’ করা হয় শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও জায়েদ খানকে। বয়কটের ফলে তাদের নিয়ে চলচ্চিত্রের কেউ কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানায় সংগঠনগুলো। সে বয়কটের কোনো সুরাহা না করেই মিশা সওদাগর চলে যান আমেরিকায়। তার সূত্র ধরেই তিনি অভিনয়কে বিদায় জানান এমন গুঞ্জন রটে।
কিন্তু আসল সত্য হচ্ছে সারা বিশ্বে যখন করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউন চলছিলো সে সময় মিশা সওদাগরের স্ত্রী-সন্তান অবস্থান করছিলো আমেরিকার ডালাস শহরে। তাদের জন্য মন সবসময় পুড়েছে তার। তাই ফ্লাইট চালু হওয়া মাত্রই স্ত্রী-সন্তানের কাছে ছুটে যান এ অভিনেতা। এর সঙ্গে অভিনয়কে বিদায় জানানোর কোনো যুক্তি নেই বলেই মন্তব্য তার। আর বিষয়টা পরিচালক সমিতিতে বলেছেনও তিনি।
মিশা এখন আছেন আমেরিকা ডালাস শহরে। সেখানে করোনার উপদ্রব একটু বেশি হওয়ায় বাসা থেকে খুব একটা বের হচ্ছেন না তিনি। সেখানে সবাই এখন করোনার টিকার জন্য অপেক্ষা করছেন। টিকা গ্রহণের অপেক্ষায় আছেন মিশা সওদাগরও।এরপরই ফেব্রুয়ারি শেষ বা মার্চের শুরুর দিকে দেশে ফিরবেন তিনি। তবে দেশের বাইরে থাকায় দেশের মানুষ, দেশের সিনেমা ও এফডিসিকে খুবই মিস করছেন মিশা।
মিশা সওদাগর বলেন, ‘দেশের বাইরে থাকলেও মন পড়ে আছে দেশে। কবে ফিরবো সে অপেক্ষাই করছি। এখানে সন্তানরা পড়াশুনা করছে। তাই চাইলেই হুট করে ফিরতে পারি না। তবে সব ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারির শেষ বা মার্চের শুরুতে দেশে ফিরবো। ফিরেই শান, মিশন এক্সট্রিম, দিন দ্য ডে- ছবির ডাবিংয়ের কাজ শেষ করবো। এর বাইরে ভিন্নধর্মী কয়েকটি ছবির গল্প নিয়েও আলাপ হচ্ছে সেগুলো নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবো।’
এদিকে বয়কটের বিষয়ে জানতে চাইলে মিশা সওদাগর বলেন, ’আমি ঝামেলা করার মতো মানুষ না। আমাকে যারা চিনেন তারা বিষয়টি জানেন। সারা জীবন সিনেমার ভালো হোক, সিনেমার মানুষদের ভালো হোক- এটাই চেয়েছি। সিনেমার সবার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক। তার পরও এমন পরিস্থিতির মুখে আমাকে পড়তে হচ্ছে। প্রযোজক, পরিচালক, অভিনয়শিল্পী, ক্যামেরাম্যান—সবাই সিনেমার প্রাণ। একজনকেও বাদ দিয়ে সিনেমা নির্মাণ সম্ভব নয়। আশা করি, দ্রুত সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটবে।’